অবশেষে স্কুলে যাচ্ছে সুখী
কয়েক দিন আগেও বাবার খুনিদের ভয়ে পটুয়াখালীর মধ্য তিতকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুখী আক্তার স্কুলে যেতে পারছিল না। তবে এখন সে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।
১৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজ ২৪.কমে ‘বাবার খুনিদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না সুখী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পটুয়াখালীর পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে পটুয়াখালী সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এরপর ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এতে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বুধবার থেকে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শুরু করে সুখী আক্তার।
সুখীর পরিবার জানায়, নিরাপত্তাহীনতার যে বিষয়টা ছিল তা কেটে গেছে। সুখী নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন থেকে সুখীর পরিবারের সার্বিক বিষয় পরিদর্শনের জন্য পটুয়াখালী সদর উপজেলার এসিল্যান্ড লতিফা জান্নাতী ইতোমধ্যে সুখীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন ও স্কুল পরিদর্শন করেছেন।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সুখীর পরিবারকে আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুখীর বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারবো বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই ইউনিয়নের তিতকাটা এলাকার বাসিন্দা শাহ-জামালা গাজী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর কয়েক বছর আগে নিজ বাড়িতে ফিরে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে গত ২১ অক্টোবর রাতে পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় আনোয়ার খন্দকার গংরা তাকে হত্যা করে বাড়ির পাশে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় নিহতের বোন তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো আসামিদের হুমকির কারণে বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলো নিহত শাহজামাল গাজীর একমাত্র মেয়ে সুখী আক্তর।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/পিআর