ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

প্রকাশিত: ০৫:৩২ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা এক হাজার ৪৬০ জন। কিন্তু বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৩ হাজারের উপরে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দি অতিরিক্ত হলেও নিরাপত্তার ঘাটতি নেই। সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন কারারক্ষীরা।
 
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিন হাজার ৭৬ জন। এর মধ্যে পাঁচ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছেন ১৭ জন। কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ৭২ জন। এছাড়া জেএমবি সদস্য রয়েছে ৫৮ জন। আলাদা আলাদা সেলে রয়েছেন এরা।

পুরো কারাগারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন ৫শ ৮ জন কারারক্ষী। সার্বক্ষণিক নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দিচ্ছেন তারা।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানান, ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দি সংখ্যা দ্বিগুন হলেও নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও জেএমবি সদস্যদের রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারিতে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা রয়েছেন আলাদা সেলে।

একেকটি সেলে রয়েছেন দুজন করে। প্রতি দুইটি সেলের নিরাপত্তায় রয়েছেন একজন করে কারারক্ষী। গোয়েন্দা নদরজারিও থাকছে। একই নিরাপত্তায় রয়েছেন জেএমবি সদস্যরও।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ বন্দিরা নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ও জেএমবি সদস্যদের বেলায় কড়াকড়ি আরোপ রয়েছে। মাসে একবার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাদের। তবে ঝামেলা এড়াতে জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা তেমন সাক্ষাত করেন না।
 
এদিকে, কারাগারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, পাঁচ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছে ১৭ জন।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বন্দি রয়েছেন জেলার বাঘা উপজেলার তেঁতুলিয়া সাউথপাড়ার ফয়েন উদ্দিন। ২০০৬ সালের ১৩ মে বাঘা থানার একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি হন তিনি। জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এ বিচারাধীন ওই মামলা এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত মোট ১১৫ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন ফয়েন উদ্দিন।

সর্বোচ্চ ১২০ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন কারাবন্দি ইসরাফিল প্রামাণিক। তার বাড়ি বাগমারা উপজেলার খোলাবোনা এলাকায়। ২০০৯ সালের ৬ মে বাগমারা থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর থেকেই কারাবন্দি তিনি। অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৩ এ বিচারাধীন এ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

দীর্ঘ সময় অনিষ্পন্ন মামলায় একমাত্র নারী কারাবন্দি হলেন রেহানা বেগম। তার বাড়ি জেলার পুঠিয়া উপজেলার সাহাবাজপুরে। হত্যা মামলায় ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে কারাবন্দি তিনি। এর আগের দিন পুঠিয়া থানায় ওই হত্যা মামলাটি দায়ের হয়। এ পর্যন্ত তিনি ৭৩ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। জেলা দায়রা জজ আদালতে এ মামলাটি বিচারাধীন।

তবে বিনা বিচারে কোনো আসামি রাজশাহী কারাগারে বন্দি নেই বলে জানিয়েছেন সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান।

তার ভাষ্য, বিচারাধীন মামলায় বন্দি রয়েছেন আসামিরা। তবে ৫ বছর বা তদুর্ধ্ব সময় অনিষ্পন্ন মামলায় বন্দি রয়েছেন ১৭ জন। তাদের ব্যাপারে অধিফতরে প্রতি মাসেই প্রতিবেদন দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

রাজনৈতিক বন্দি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে এটি ডিটেনশন বলা হত। এখন তারা সুনির্দিষ্ট মামলায় বন্দি। অন্যান্য বন্দির মতই সুযোগ সুবিধা পান তারা।
 
ফেরদৌস সিদ্দিকী/এফএ/পিআর