ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় শীত নামে ভোর ও সন্ধ্যায়

প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধায় সন্ধ্যার পর ও ভোর থেকে ঘনকুয়াশায় শীতের দেখা মিলছে। কয়েকদিন ধরেই ভোর ও সন্ধ্যার পর থেকে ঘনকুয়াশা আর হালকা বাতাসে শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এখানকার মানুষ ও প্রাণিকূল পড়েছেন বিপাকে। সকাল ও রাতে খড়কুটে জ্বালিয়ে এবং গায়ে কাঁথা ও কম্বল দিয়ে তাদের শীত নিবারণ করতে হচ্ছে।

কয়েকদিন ধরেই গাইবান্ধা জেলা শহরসহ সাত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনের গরমের সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যার শুরুতে হালকা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে কুয়াশা। এরপর রাত গভীরের পর ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চারদিকে কুয়াশায় ঢাকা থাকে। সন্ধ্যার পর ও ভোর রাতে চারদিকে তাকিয়ে দেখলে মনে হয় যেন শীতের বুড়ি এসে জবর দখল করে নিচ্ছে জেলা ও উপজেলা শহরসহ আশপাশের গ্রামের প্রকৃতি।

Gaibandha

সন্ধ্যার পর থেকে হাট-বাজার ও রাস্তাঘাটে চলাফেরার জন্য এখন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ হালকা বা পাতলা শীতের কাপড় গায়ে জড়িয়ে বের হন। এছাড়া গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ১৫ ইউনিয়নে শীত জেকে বসায় সেখানকার মানুষকে শীতের ভারী কাপড় পরতে হচ্ছে। এছাড়া সকাল ও রাতে অনেক বাড়িতে খড়খুটে জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চলছে।

চরাঞ্চলের দরিদ্র খেটে খাওয়া বাসিন্দা আয়নাল, মালেক, ছামছুল ও জালাল উদ্দিন জানান, শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের শীতের তীব্রতা বাড়ছে। দিনদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে স্ত্রী, সন্তান ও গাবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। তাই সরকার ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি জরুরিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানান তারা।   

সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরেরর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, এনামুল হক ও আবদুর রশিদ জানান, ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর সন্ধ্যার পর হালকা ঠাণ্ডা বাতাসে শীত অনুভব হচ্ছে। তাছাড়া কয়েকদিন ধরে ভোর রাতে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। ফলে তুলে রাখা পুরনো শীতবস্ত্র বের করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এদিকে, জেলা শহর ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন হাট-বাজারে দেখা যায়, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে নতুন করে লেপ-তোষক তৈরি করেছেন। এ কারণে লেপ-তোষকের কারিগরদের ব্যস্ততাই প্রমাণ করে দিচ্ছে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে শীত জেঁকে বসবে।

Gaibandha

এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষ শহরের বিভিন্ন ফুটপাতের দোকান থেকে শীতের গরম কাপড় সংগ্রহ করছেন। আবার অনেক বাড়িতে চলছে ছেঁড়া শাড়ি ও লুঙ্গি দিয়ে জোড়া তালির কাঁথা তৈরির কাজ। অপরদিকে শীতের আগমনে বিত্তবানরা ছুটছেন শহরের নামি-দামি বিপণী বিতান ও কাপড়ের মার্কেটগুলোতে।

তবে জেলার সুধী মহলের দাবি, সরকার ও বেসরকারি সংগঠনের পাশাপাশি শীতের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এলাকার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। কিন্তু যখন মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন তখন এসব শীতবস্ত্র দেয়া হয়। তাই এ বছর শীতের শুরুতে এসব ব্যক্তি ও সংগঠনকে জেলার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান তারা।

জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ জানান, কয়েকদিন ধরেই জেলায় শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে শীতের তীব্রতা এখন চরাঞ্চলে বেশি। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আগেভাগেই এবার শীতবস্ত্র বিতরণ করার চেষ্টা করা হবে।

জেডআরপি/আরএআর/আরআইপি