ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাঁওতালদের ধান বুঝিয়ে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৬

রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে সাঁওতালদের রোপণ করা ধান কেটে তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর প্রথম দিনের কর্তন করা দুই মণ ওজনের ২৬ বস্তা ধান সাঁওতালদের বুঝিয়ে দেয় মিল কর্তৃপক্ষ।

রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাদ আলী উপস্থিত থেকে সাঁওতালদের হাতে ধানের বস্তা বুঝিয়ে দেন।

এ সময় বারনা বাস টুডু, আনছেন হেমভ্রম, সুরেন টুডু ও সুশিল মার্ডিসহ ১৭ সদস্যের সাঁওতাল প্রতিনিধি মিল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছ থেকে ধান গ্রহণ করে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ধান কাটার মেশিন (কম্বাইন্ড হারভেস্টার) দিয়ে ধান কাটা শুরু করে। বিকেল পর্যন্ত কাটার উপযোগী ৩০ একর জমির মধ্যে প্রায় আড়াই একর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়।

ধান কাটার সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি, রাজস্ব) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল হান্নান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ আলী, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রতকুমার সরকার, চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া খামারের জমিতে ধান কাটতে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খামার এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ মোতায়েন ছিল।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশ পেয়ে ধান কাটার জন্য কয়েকবার সাঁওতালদের প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু সাঁওতালরা ধান কাটার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে মিল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ধান কাটা শুরু হয়। প্রথম দিনে আড়াই একর জমির ধান সাঁওতালদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কাটার উপযোগী ৩০ একর জমির ধান কাটতে কয়েক দিন লাগবে বলেও জানান তিনি।

রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, সাঁওতালদের রোপণ করা ধান পর্যায়ক্রমে কেটে তালিকা অনুযায়ী তাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। প্রথম দিনে ধান কর্তনের সময় সকালে সাঁওতালরা ধান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু সন্ধ্যায় ১৭ জনের কাছে ধান বুঝিয়ে দেয়া হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভ্রতকুমার সরকার জানান, প্রথম দিনের ধান কাটা সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। এছাড়া ধান কাটার পুরো খামার এলাকায় মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ মোতায়ের থাকবে।

প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের শ্রমিক-কর্মচারী পুলিশ পাহারায় আখ কাটতে যায়। পরে তাদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষে সাঁওতালদের ছোড়া তীর বিদ্ধ হয়ে আটজন পুলিশ আহত হন। সংঘর্ষের পর পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাঁওতালদের কয়েক শত ঘরে ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ সময় সাঁওতালদের চাষ করা বিভিন্ন ফসলের জমির ফসলও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তবে ১০০ একর জমিতে চাষ করা ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। এরপর মিল কর্তৃপক্ষ পুরো খামারের জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এনএইচ/বিএ

আরও পড়ুন