ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রলোভনে পাম চাষ করে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক

প্রকাশিত: ০৫:২৫ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৬

বিভিন্ন কোম্পানির প্রলোভনে পাম চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন মেহেরপুরের শত শত কৃষক। উৎপাদিত পাম ফল সংরক্ষণ ও বিপণন করতে না পারায় বাধ্য হয়ে পাম গাছ কেটে ফেলতে হচ্ছে তাদের। এতে কয়েক কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে এ চাষিদের।

স্থানীয়ভাবে পাম তেল নিষ্কাশনের একটি কারখানা চালু হলেও অর্থাভাবে আলোর মুখ দেখেনি সেটি। এদিকে চাষিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানিগুলো পাম গাছের চারা বিক্রির কয়েক বছরের মধ্যে আত্মগোপনে চলে যায়।

মেহেরপুর শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার পামচাষি রুহুল আমিন জানান, ২০০৭ সালে আমদহ মাঠে তার ১৬ বিঘা জমিতে গ্রিন বাংলা নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রায় ৮০০টি পামের চারা রোপণ করেন তিনি। এজন্য কোম্পানির কাছে গুনতে হয় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা।

pam

চুক্তি ছিল চারা রোপণের পর থেকে ফল ধরা পর্যন্ত সব খরচ বহন করবে ওই কোম্পানি। পরে চাষিদের কাছ থেকে পাম ফল সংগ্রহ করবেন তারা। কিন্তু চারা রোপণের কয়ক বছর পর থেকেই তাদের আর খোঁজ মিলছে না।

এদিকে সাত বছর পর গাছে পাম ফল আসা শুরু করে। কিন্তু সংরক্ষণ ও পাম ফল কেনার ক্রেতা না থাকায় গাছের ফল গাছেই নষ্ট হতে থাকে। তিনি নিজেই পাম ফল থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের জুন মাসে পাম গাছ কেটে ফেলেন তিনি।

pam

এর আগে এ জমিতে কলা চাষ করতেন। এ চাষ অব্যহত রাখলে ১০ বছরে কয়েক কোটি টাকা লাভ করতে পারতেন তিনি। জেলার অনেক চাষি এখন পাম গাছ কেটে ফেলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, শুধু মেহেরপুর জেলায় নয়, এ কোম্পানির প্রলোভনে দেশের অনেক জেলার চাষি পাম চাষে সর্বস্বান্ত হয়েছে। তারাও এখন পাম ফল বিক্রির জায়গা পাচ্ছেন না। যেসব চাষির পাম গাছ এখনও দাঁড়িয়ে আছে ফল বিক্রি করতে না পেরে, তারাও রয়েছেন চরম বিপাকে। এদিকে গাছের পরিচর্যা করতে বছরে ব্যয় হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

মেহেরপুরের উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলার কয়েকজন উদ্যোক্তা পাম ফল থেকে তেল নিষ্কাশনের জন্য একটি কারখানা চালু করেন। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু তেলও বের করেছিলেন। কিন্তু অর্থভাবে তারাও আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারেননি।

pam

মেহেরপুর জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ অফিসার স্বপনকুমার খাঁ জানান, চাষিরা কোনো কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পাম চাষ করেছেন। চাষিদের বাঁচাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেল নিষ্কাশনের একটি কারখানা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, প্রতারক কোম্পানির সদস্যদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। চাষিদের বাঁচাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেল নিষ্কাশনের একটি কারখানা তৈরির জন্য উৎসাহ জোগাবেন। পাম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে উৎপাদিত পাম ফল প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন বিষয়েও সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

এফএ/এনএইচ/এমএস