ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সরকারি ত্রাণ সহায়তা পায়নি রসরাজের পরিবার

প্রকাশিত: ১১:১২ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬

অবশেষে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছে বহুল আলোচিত রসরাজ দাসের পরিবারের সদস্যরা। তবে এখনো ভাঙা বাড়িতেই থাকছেন রসরাজের বাবা জগন্নাথ দাস, মা নমিতা রাণী দাস ও ভাই দয়াময় দাস। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় গ্রেফতার হন নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০)। পরদিন সকালে দুস্কৃতিকারীরা হরিণবেড় গ্রামের পশ্চিমপাড়াস্থ রসরাজের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

তবে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশীদের না জানিয়ে ২৯ অক্টোবর রাতের আঁধারে রজরাসের মা-বাবাসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রসরাজের পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার এক মাস পর গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রসরাজের মা নমিতা রাণী দাস ও বাবা জগন্নাথ দাস রসরাজের মুক্তি দাবি করে ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ নাসিরনগরে তাদের বাড়িতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। এরপর গত রোববার (৪ ডিসেম্বর) তারা বাড়ি ফিরে আসেন।

নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু জাফর জাগো নিউজকে জানান, রসরাজের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। হরিণবেড় গ্রামে পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পও বসানো হয়েছে।

এদিকে, রজরাসের পরিবার বাড়ি ফিরে আসলেও তাদের ঘর-বাড়ি এখনো ভাঙাই রয়েছে। স্বাভাবিক হয়নি। হামলায় ভাযা ঘরবাড়িতে এখন কোনোরকমে বসবাস করছেন। এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন রসরাজের মা নমিতা রাণী দাস।

rasraj-brahmanbaria

মঙ্গলবার বিকেলে রসরাজের মা নমিতা রাণী দাস সাংবাদিকদের জানান, আমরা এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাইনি। ভাঙা ঘরেই থাকছি, পূজা অর্চনাও করতে পারছি না। রসরাজের মুক্তি এবং ভাঙা ঘর মেরামত করে দেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী জাগো নিউজকে জানান, রসরাজের পরিবার বাড়ি ফিরেছেন শোনার পর তাদের ত্রাণ সহায়তা নিতে উপজেলা পরিষদে আসার জন্য খবর দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো ত্রাণ নিতে আসেনি।

দু-একদিনের মধ্যে তারা না এলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মামলায় গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ (৩০) দাসের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নাসিরনগর উপজেলা।

পরদিন (৩০ অক্টোবর) মাইকিং করে সমাবেশ ডাকে দুটি ইসলামী সংগঠন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই দুস্কৃতিকারীরা নাসিরনগর উপজেলা সদরে তাণ্ডব চালায়। এসময় দুস্কৃতিকারীরা উপজেলার অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে দুস্কৃতিকারীরা আবারো উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়েরর অন্তত ৬টি ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজিজুল সঞ্চয়/বিএ