ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসছে অস্ত্র ও মাদক

প্রকাশিত: ০৩:০০ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

যশোরের বেনাপোল ও শার্শার সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা।  দু`একটি চালান আটক করলেও এর সিংহভাগই চলে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

জানা গেছে, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, বাহাদুরপুর, সাদিপুর ও শার্শার অগ্রভূলোট, গোগা, শিকারপুর, কাশিপুর এলাকা দিয়ে আসছে মাদক, অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য। পুলিশ ১ ডিসেম্বর শার্শার রামচন্দ্রপুর গ্রাম থেকে বাহাদুরের শহিদুল ইসলাম নামে এক সন্ত্রাসীকে একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলিসহ আটক করে শার্শা থানা পুলিশ।

এরপর ২ ডিসেম্বর শার্শার মহিষাকুড়া গ্রামে বোমা বানানোর সময় নিজের বানানো বোমা বিস্ফোরণ হলে আশানুর রহমান আশা নামে একজন বোমা কারিগর আহত হয়। এ সময় পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০টি হাত বোমা, একটি ভারতীয় পিস্তল,  তিন রাউন্ড গুলি ও দুইটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে।

৩ ডিসেম্বর বেনাপোলের দৌলতপুর গ্রামের মুনতাজের ছেলে অস্ত্র ব্যবসায়ী মুকুলকে দুইটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে বিজিবি। ৫ ডিসেম্বর বেনাপোলের বারোপোতা গ্রামের মুনাফ বিশ্বাসের ছেলে শাহিনকে একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলিসহ আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা।

৯ ডিসেম্বর বেনাপোলের বালুন্ডা বাজার থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ১শ গ্রাম হেরোইনসহ রানা (২২) নামের একাধিক মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে পোর্ট থানা পুলিশ।

এছাড়াও ২ ডিসেম্বর বেনাপোলের সীমান্তবর্তী সাদিপুর গ্রামের হেরোইন ব্যবসায়ী আকবারের বাড়ি থেকে দেড় কেজি হেরোইনসহ হাবিবুর রহমান হবি ও শওকত আলীকে আটক করেছে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৫ ডিসেম্বর শার্শার বাগআঁচড়ার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাককে সাতমাইল এলাকা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

৯ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বেনাপোল ও পুটখালি থেকে মহিলা মাদক ব্যবসায়ীসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে ২শ বোতল ফেনসিডিল, ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫শ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ।

সীমান্ত এলাকার লোকজন জানান, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীদের সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন বিজিবি পোস্টট থাকলেও এসব অস্ত্র ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারি কম থাকায় এরা ভারত থেকে নির্দিধায় অস্ত্র এবং মাদক এনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শার্শার কাশিপুর এলাকায়ও মাদকের বিশাল কেনাবেচা হয় প্রশাসনের নাকের ডগায়। এখানে মদ, গাজা, ফেনসিডিল,হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক বিকিনিকি হয়ে থাকে।

এছাড়া বেনাপোল বাজারের মাছ বাজারের পিছনে, ভবারবেড় রেললাইন পাড়া, দুর্গাপুর রোডে, কাগজপুকুর রেল লাইন এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়ে থাকে মাদকদ্রব্য। বেনাপোল বন্দর এলাকায় দেখা যায় গাড়ির ড্রাইভাররা সন্ধ্যার পর গাড়িতে বসে মদ, গাজা, ফেনসিডিল সেবন করছে।

আবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে বেনাপোল এসে মাদকদ্রব্য সেবন করে চলে যায়। বেনাপোল পোর্ট থানা মাঝে মধ্যে দুই একজনকে সেবনের সময় আটক করলেও মূল ব্যবসায়ীরা থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। অস্ত্রসহ মাদক উদ্ধার হচ্ছে। এলাকার মানুষের সচেতনতার প্রয়োজন বেশি। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ ব্যাপারে সীমান্তে নিয়োজিত বেনাপোল বিজিবি কোম্পানি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম ও পুটখালি বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আব্দুল জলিল জানান, সিও স্যারদের মাদক ও অস্ত্র পাচার বন্ধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। মাদক পাচারে কড়াকড়ি আরোপ করায় বর্তমানে বেনাপোলসহ আশেপাশের সীমান্ত পথে ভারত থেকে মাদক আসা কমে গেছে।

পাশাপাশি আমরা গত এক মাসে অস্ত্র গুলি ম্যাগজিন উদ্ধারও করেছি। অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মূল হোতাদের ধরাও চেষ্টা করা হচ্ছে।

জামাল হোসেন/এফএ/এমএস