ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এবার বুড়াসিকদারপাড়া ছাড়তে বর্মী সেনাদের আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৬

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান পৈচাশিকতায় টিকতে না পেরে স্বদেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের স্রোত থামছে না। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এলপি মারসুদির ইয়াঙ্গুন সফরের পরও থামেনি বর্মী সেনাদের তাণ্ডবলীলা।

দেশটির সেনা, পুলিশ ও রাখাইন যুবকরা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ আদিম পৈচাশিক নির্যাতন এখনো বিদ্যমান।

তার ওপর মংডুর সর্বাপেক্ষা রোহিঙ্গা বসতি অধ্যুষিত বুড়াসিকদারপাড়া ছাড়তে বর্মী সেনারা সম্প্রতি তিনদিনের সময় সীমা বেঁধে দেয়ায় সেখানে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। সেখানে ৬৮০ পরিবার রয়েছে। তাই বিজিবির সতর্ক নজরদারিতেও থামছে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে আরো ৩০ পরিবারের দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং বস্তির পাহাড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। সম্ভ্রম, স্বজনহারা বিধবা রোহিঙ্গা নারী ও পিতৃহারা শিশুদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড শীতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গারা।

ভোরে মংডুর বুড়াসিকদার পাড়া থেকে আসা শাহ আলম (৪৫), মোহাম্মদ আয়ুব (৪০), ফরিদুল আলম (৩০) ও লিয়াকত আলী (২৮) জানান, বুড়াসিকদার পাড়া গ্রামে প্রায় ৬৮০টি পরিবার রয়েছে। যাদের মধ্যে অনেক পরিবারই স্বচ্ছল। গত মঙ্গলবার সশস্ত্র বর্মী সেনারা গ্রামে প্রবেশ করে সবাইকে তিনদিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার ঘটনায় সেখানে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তাদের সঙ্গে বস্তিতে আসা ১৯ বছর বয়সী সাদিয়া জানান, ছোট বোন পারভীন ব্যতীত ১১ জনের সংসারে আর কেউ বেঁচে নেই।

হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাদিয়া জানায়, প্রায় ৯ দিন আগে গভীর রাতে বর্মী সেনারা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘুমন্ত বাবা আবুল কালাম (৫৫), মা রাজিয়া বেগমকে (৪৫) ধারালো কিরিচ দিয়ে হত্যা করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আগুনে দগ্ধ হয়ে তাদের জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় বোন আলখিক (২৫), খদিজা (২৮), তাহেরা (২৩), রাশেদা (২২), আছিয়া (২০), ভাই আবুল হাছানসহ (৩৫) ৯ জন।

সাদিয়া আরো জানায়, মগ সেনাদের জুলুম থেকে রেহায় পেতে সাত দিন বন জঙলে আশ্রয় নিয়ে গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করেছে তারা দুই বোন। বৃহস্পতিবার ভোরে তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে বস্তিতে এসেছে তারা। এ পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। কোথায় রাত কাটাবে তাও জানে না।

এদিকে, আইওএম ও ডব্লিউএফপির সদ্যাশ্রিতা রোহিঙ্গা পরিবার পিছু ২৫ কেজি করে চাল ও কম্বল বিতরণ করলেও নতুন আশ্রিত রোহিঙ্গারা তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব রোহিঙ্গাদের নিয়েও বাণিজ্য চালাচ্ছে স্বদেশীয়  অর্থলোভীরা।  

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, বস্তি এলাকায় স্ব-ঘোষিত চেয়ারম্যান ও নেতা নামধারী আবু ছিদ্দিক (৫৫), মোহাম্মদ নুর (২৬), মো. আয়ুব (২৭), আব্দু শুক্কুর (৪০), রুহুল আমিন মাঝি (৫০) ও মোহাম্মদ ছালাম মাঝিসহ (৪৫) ছয়জনের একটি সিন্ডিকেট ত্রাণ ও ঝুঁপড়ি ঘর বরাদ্ধের নাম ভাঙিয়ে পরিবার পিছু চাঁদা আদায় করছে। যা মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সর্বশান্ত রোহিঙ্গারা তাদের কথা মত টাকা দিতে না পারলে বঞ্চিত হচ্ছে প্রদত্ত ত্রাণ সামগ্রী থেকে। ফলে সম্ভ্রম ও স্বজনহারা পিতৃহীন শিশুরা বরাবরই ত্রাণ সামগ্রী থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নেতা ফয়সাল আনোয়ার জানান, ৩৩ শত পরিবারের প্রায় ১৭ হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালং বস্তিসহ বনভূমির পাহাড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। এদের অধিকাংশ এখনো ত্রাণ সামগ্রী পায়নি।

ডব্লিউএফপির প্রোগ্রাম অফিসার এসকে হাসান জানান, এ পর্যন্ত সাড়ে ২৩ শত পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

আইওএম’র ম্যানেজার সৈকত বিশ্বাস জানান, তারা ২৫০০ পরিবারকে কম্বল বিতরণ করেছেন।

কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ আরমান শাকিল বলেন, বস্তি এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে কিছু কিছু নতুন রোহিঙ্গা আত্মীয়তার সুবাধে ক্যাম্পে আসা-যাওয়া করছে বলে জানান তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এমএস