ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভর্তির টাকা যোগাতে ভ্যান চালাচ্ছে মাহাবুর

প্রকাশিত: ১০:৩৮ এএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬

কিশোর বয়সে মাহবুর রহমান ভ্যানগাড়ি চালিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। মাহাবুর এবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (দাখিল, জেডিসি) পরীক্ষা দিয়েছে।

অন্য ছাত্রদের মতো পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা হয়নি মাহাবুরের। অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির পর থেকে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে রোজগারের টাকা দিয়ে চলে মাহাবুরের লেখাপড়া। এ ছাড়া পরিবারকেও তার কিছু সাহায্যে করতে হয়।

মাহাবুর রহমান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মজিদা দাখিল মাদরাসার ছাত্র ও বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের সবজি বিক্রেতা মকবুল হোসেনের ছেলে।

কঞ্চিবাড়ী-পাঁচপীর সড়কের মজুমদার বাজারে দেখা হয় মাহাবুর রহমানের সঙ্গে। এ সময় মাহাবুর জানায়, তার বাবা একজন সবজি বিক্রেতা। আড়ৎ থেকে সবজি কেনার পর স্থানীয় কঞ্চিবাড়ী বাজারে বিক্রি করেন। বসতভিটে ছাড়া তার বাবার কোনো সম্পদ নেই। কোন রকমে চলে চারজনের সংসার। বাড়িতে মা মর্জিনা বেগম ও মাহিন (১০) নামে এক ছোট ভাই দ্বিতীয় শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে।

লেখাপড়ার প্রতি ছোট বেলা থেকে তার প্রবল অাগ্রহ রয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির পর অভাবের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হতে বসেছিল। পরে বাধ্য হয়ে ভ্যানগাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে হয় তাকে। তখন থেকে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে আয়ের টাকায় লেখাপড়ার খরচ ও পরিবারকে সাহায্য করতে হচ্ছে।

নিজের কথা উল্লেখ করে মাহাবুর বলেন, ভ্যানগাড়ি চালিয়ে আয়ের টাকা দিয়ে জেডিসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। পরীক্ষা ভালো হয়েছে। এখন ভালো ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু নবম শ্রেণিতে ভর্তির টাকা ও বই, খাতা ও কলমসহ নিজের পোশাকের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। টাকা না পেলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারব না।

Mahabur

লেখাপড়া বন্ধ হয়ে পড়বে এ আশষ্কায় এখন থেকে ভ্যানগাড়ির প্যাডেল চেপে রোজগার করতে হচ্ছে তাকে। ভাড়া ভ্যানগাড়ি নিয়ে দিন চলছে তার।

মাহাবুর বলেন, দিনপ্রতি ১৩০ টাকা মালিককে দিয়ে হয়। রোজগারের কিছু টাকা সংসারের খরচ যোগাতে বাবার হাতে দিচ্ছি আর কিছু টাকা নিজের লেখাপড়ার জন্য মায়ের হাতে জমা করছি। শত কষ্ট আসলেও ভ্যানগাড়ি নিজের লেখাপড়া চালিয়ে ভালো কিছু করতে চাই। অনেক বড় হতে চাই।

মাহাবুর রহমান সম্পর্কে স্থানীয় শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, মাহাবুর একজন ভালো ছেলে। ছাত্র হিসেবেও মেধাবী। ভ্যান চালিয়ে নিজের লেখাপড়া খরচ ছাড়াও পরিবারকে সাহায্য করছে। মাহাবুরকে দেখে অন্যদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ। এভাবে লেখাপড়া শেষ করলে একদিন বড় মানুষ হবে মাহাবুর।

মাহাবুরের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, সবজি বিক্রি করে সংসার চালাই। নিজের জায়গা জমি নেই। অভাবের সংসারের কারণে ছেলের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারি না। তাই ছেলে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মজিদা দাখিল মাদরাসার সুপার সিরাজ উদ্দিন আকন্দ বলেন, মাহাবুর নিজের লেখাপড়া ও বাবাকে সহযোগিতা করতে ভ্যানগাড়ি চালায়। মাহাবুরের প্রতি সব শিক্ষকের সুদৃষ্টি রয়েছে।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/জেআইএম