ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রামপালে বিধবাকে অবরুদ্ধ করে পালাক্রমে ধর্ষণ : ৬ দিন পর উদ্ধার

প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ১৮ মার্চ ২০১৫

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় এক বিধবা নারীকে (৩২) অপহরণের পর নৌকায় করে নদীতে নিয়ে পালাক্রমে ৬ দিন গণধর্ষণ করেছে চার যুবক। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কুমারখালী গ্রাম থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা জানতে পেরে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক মিঠু (এএসপি) ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।

গত বৃহষ্পতিবার গভীররাতে রামপাল উপজেলা পেড়িখালী ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামের কালিগঞ্জ নদীতে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার রাত দুইটায় ধর্ষণের শিকার ওই নারীর দেবর (অনুপ রায়) বাদী হয়ে রামপাল থানায় অজ্ঞাতনামা চার যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। তবে পুলিশ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

এরআগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা গ্রামে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার শিয়ালীডাঙ্গা গ্রামের এক তরুণী চার যুবকের হাতে ধষর্ণের শিকার হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার ওই নারী এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বৃহষ্পতিবার বিকেলে রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের বড় সন্নাসী ফুলতলা পাড়া গ্রাম থেকে আমি ও আমার দেবর দু’জনে পাশ্ববর্তি ডাকরা গ্রামের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে (মহানামযজ্ঞ) যাই। সেখানে গান শোনার এক পর্যায়ে রাত দশটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বাথরুমে আসলে অন্ধকারে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন যুবক আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন আমার সঙ্গে থাকা দেবর তাদের বাধা দিতে গেলে ওই যুবকরা তাকে বেদম মারধর করে ফেলে রেখে আমাকে নদীতে একটি নৌকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। অসুস্থ অবস্থায় পরে তারা আমাকে পাশ্ববর্তি কুমারখালী গ্রামে আমার এক বোনের বাড়িতে নিয়ে রেখে দেয়। আমি যাতে এই বিষয়টি কাউকে না জানাতে পারি সেজন্য গত বৃহষ্পতিবার রাত থেকেই ওই যুবকরা আমাকে এখানে নজরবন্দি করে রাখে। কিন্তু, মঙ্গলবার আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম ঘটনাটি লোকমুখে জানতে পেরে তার লোক পাঠিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, ওই যুবকদের মারপিটে আহত সুদেব হালদার বর্তমানে মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম বলেন, ডাকরা গ্রামের কতিপয় যুবক আমার ইউনিয়নের স্বামীহারা এক নারীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এই সংবাদ জানতে পেরে আমার লোকজন সেখানে যায়। আমার লোকজনের উপস্থিতি টের ওই যুবকরা পালিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

রামপাল থানা পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, ধর্ষণের শিকার ওই বিধবা নারীকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাশার বলেন, ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার পর তার জবানবন্দি নেয়া হবে। ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছি। ওই চার যুবকের পরিচয় পাওয়া গেলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

এমএএস/পিআর