ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভণ্ডপীরের খপ্পরে পড়ে স্কুলছাত্রীর সর্বনাশ

প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭

চিকিৎসার নামে তাজেল মুন্সি (৫৫) নামের এক ভণ্ডপীর মাদারীপুরের শিবচরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনার তিন মাস পর ওই স্কুলছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়। স্বামীর ঘরে গিয়ে ওই নববধূ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে নববধূকে তালাক দেয় তার স্বামী।

বুধবার তাজেল মুন্সিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নির্যাতিতা নারী তাজেল মুন্সিকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ধর্ষককে গ্রেফতারের পর বিক্ষোভ মিছিল করে তার ফাঁসি দাবি করে এলাকাবাসী।    

স্থানীয় সূত্র ও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ গ্রামের উৎরাইল দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী অনেক দিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিল। এ অবস্থায় তার মা লোকমুখে পাশের ইউনিয়নের তাজেল মুন্সি নামের এক ভণ্ডপীরের কথা জানতে পারেন।

পরে তার মা অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগরা পুকুর পাড় গ্রামের কথিত ভণ্ডপীর তাজেল মুন্সির কাছে যান। তাজেল মুন্সি প্রথম দিন স্কুলছাত্রীকে চিকিৎসা হিসেবে পানিপড়া দেন।

সপ্তাহখানেক পর তাদের বাড়িতে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় দেয়া হয়। কয়েকদিন পর তাজেল মুন্সি ছাত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে পেটে মালিশ করার জন্য তেলপড়া দেন।

কয়েকদিন পর আবার তাজেল মুন্সি চিকিৎসার কথা বলে ওই বাড়ি যান। ওই সময় স্কুলছাত্রীর ভাই বিদেশ থেকে ফোন করায় তার মা মোবাইল নিয়ে ঘরের বাইরে যান। এ সুযোগে তাজেল মুন্সি স্কুলছাত্রীর গায়ে তেল মালিশ করেন।

এ সময় স্কুলছাত্রী বাধা দিলে তাজেল মুন্সি তাকে ভয় দেখান। এসবে বাধা দিলে স্কুলছাত্রীর বড় ক্ষতি হবে বলে বলেন তাজেল মুন্সি। বাধ্য হয়ে স্কুলছাত্রী শরীরে তেল মালিশ করতে দেয়। একপর্যায়ে তাজেল মুন্সি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার পর এ কথা কাউকে বললে স্কুলছাত্রীর ক্ষতি হবে ভয় দেখান তাজেল মুন্সি। লজ্জা আর ভয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারের কাউকে বলেনি। এ ঘটনার তিন মাস পর দত্তপাড়া এলাকার এক মুদি দোকানির সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের দুই মাস পর অসুস্থ হয় গৃহবধূ। গত ২৬ ডিসেম্বর স্বামী তাকে নিয়ে পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে তার আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। প্রতিবেদন দেখে চিকিৎসক জানান, ওই গৃহবধূ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি শুনে গৃহবধূর স্বামী অবাক হন এবং কারণ জানতে চান।

একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ বিষয়টি স্বামীকে খুলে বলে। এ ঘটনা শোনার পর একই দিন বিকেলে পারিবারিকভাকে ওই গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দেন।

পরদিন মেয়েটি ও তার পরিবার দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ভণ্ডপীর তাজেল মুন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ওই তাজেল মুন্সিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। বুধবার রাতে শিবচর থানায় নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে মামলা করে।

নির্যাতিতা জানায়, পেটের ব্যথার তার মা ভণ্ডপীরের কাছে নিয়ে যায়। এ সুযোগে ভণ্ডপীর তাদের বাড়িতে কয়েকবার আসে। ঘটনার দিন তার প্রবাসী ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে মা বাইরে গেলে তাজেল মুন্সি তাকে ধর্ষণ করে।

নির্যাতিতার ভাষ্য, এতে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। ডাক্তারি রিপোর্ট আসার পর তা দেখে স্বামী আমাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। আমি এই লম্পট ভণ্ডপীরের ফাঁসি চাই।

শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, নির্যাতিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তাজেল মুন্সিকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে তাজেল মুন্সি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।  

এ কে এম নাসিরুল হক/এএম