ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আসছে রোহিঙ্গা খাচ্ছে বনভূমি

প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা-পুলিশের পৈচাশিকতার পর বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে মংডুসহ আক্রান্ত এলাকা। এ কারণে দেখা দিয়েছে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের অভাব। তাই বেঁচে যাওয়া অধিবাসীরা মাতৃভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রেখেছে। সীমান্ত অতিক্রম হয়ে বাংলাদেশে এসে পাহাড়ে আবাস গড়ছে রোহিঙ্গারা। গড়ে তুলছে নতুন রোহিঙ্গা বস্তি।

অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় বালুখালীর পাহাড়ি এলাকায় ঝুপড়ির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে। এ পর্যন্ত কুতুপালং ও বালুখালীর সংরক্ষিত ও রক্ষিত প্রায় ২০০ একর বনভূমিতে ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা বসতি গড়ে উঠেছে বলে বন বিভাগ দাবি করছে।

শনিবার ভোরে মংডুর বড় গৌজবিল ও ছোট গৌজবিল গ্রাম থেকে ১৮ পরিবারের আরো শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে বালুখালী নতুন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গার অভিযোগ সীমান্তে অরাজক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি কোনো পণ্যসামগ্রী সীমান্ত অতিক্রম করতে পারছে না। তাই পরিবারের সদস্যদের জীবন বাচাঁতে এদেশে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বালুখালীর বনাঞ্চলে গড়ে ওঠা নতুন বস্তি এলাকা ঘুরে সদ্য অনুপ্রবেশকারী বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন।

এসময় মংডুর বড় গৌজবিল গ্রামের আসমা সোলতানা (৩৩) জানান, চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের অভাব। টাকা থাকলেও জীবন রক্ষায় যেসব জিনিস প্রয়োজনেপাওয়া যাচ্ছে না।

একই গ্রামের বদি আলম (৪৫) জানান, স্ত্রী ও সায়েরা (১৫), রাশেদা (১২), আরফাত (১০), লাইলা (৮), মুফিজ (৬) ও পুতিয়া (২) নামের সন্তানদের নিয়ে শনিবার ভোররাতে তারা ধামনখালীর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।

তারা আরো জানায়, মংডু এলাকায় রোহিঙ্গা বাসিন্দারা যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের নিত্যপণ্য দিয়ে জীবনধারণ করছে। বর্মী সেনা তাণ্ডবের কারণে এদেশের কোনো পণ্য ওপারে যেতে পারছে না। যে কারণে এতদিন যারা লুকিয়ে পাহাড় জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটিয়েছে তারাও চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

বালুখালী নতুন বস্তির ১নং ব্লকের মাঝি করম আলী জানান, রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন ঝুপড়ি ঘর তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক ঝুপড়ি ঘর তৈরির স্থান দখল দেয়ার নামে টাকা আদায় করছে।
 
বনভূমি দখল অব্যাহত থাকার ব্যাপারে বালুখালী বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলী জানান, পশ্চিম বালুখালী এলাকায় ১০৫ একর বনভূমি এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব রোহিঙ্গা বনভূমি দখল করে আশ্রয় নিয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

উখিয়া সদর বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তারা দু’দফায় প্রায় ১২০টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করেছে। দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্তের ইন্ধনে রোহিঙ্গারা বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় বনকর্মীসহ ১৫ জন আহত হন।

তিনি বলেন, কুতুপালং বস্তি এলাকায় শতাধিক একর বনভূমি দখল করে রোহিঙ্গারা ঝুপড়ি নির্মাণ করেছে।

উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মুনিরুল ইসলাম জানান, নতুন করে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদের ব্যাপারে তিনি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

বালুখালী ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত জায়গা দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছে। তাছাড়া বনকর্মীরা তাদের ঝুপড়ি ঘরগুলো উচ্ছেদ করে দেয়ায় ওইসব রোহিঙ্গা বালুখালী পশ্চিমপাড়া এলাকার বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়ার নেপথ্যে তার কোনো ইন্ধন বা সহযোগিতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এমএএস/আরআইপি