নির্মিত হচ্ছে বাগেরহাটের খানজাহান বিমান বন্দর
বাগেরহাটে নির্মাণাধীন খানজাহান বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ ১৪ বছর পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে বাগেরহাট সফরকালে খানজাহান বিমান বন্দর নির্মাণের কাজ আবার শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী ওই প্রতিশ্রুতির পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ(বেবিচক) এখন এই বিমান বন্দরটি নির্মাণে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ৮০ ভাগ টাকা ও বেবিচক দিচ্ছে ২০ ভাগ টাকা।
খানজাহান বিমান বন্দর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে আরও ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। আগামী তিন অর্থ বছরের মধ্যে এই বিমান বন্দরটি নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এই বিমান বন্দরটির নির্মান কাজ শেষ হলে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজম, হযরত খানজাহানের মাজার, ও ষাটগম্বুজ মসজিদের পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ হবে। এছাড়াও দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা আরও গতিশীলসহ নির্মানাধীন পদ্মা সেতুর পাশাপাশি অবহেলিত দক্ষিঞ্চালের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেবিচক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি ছিল অর্ধশতাব্দীকাল আগে থেকেই। আর এই দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৬১ সালে খুলনা শহরের অদূরে বিল ডাকাতিয়ায় বিমান বন্দর নির্মাণে জমি বরাদ্দ করা হয়। পরে ১৯৬৮ সালে প্রকল্পটি বাতিল করে তেলিগাতিতে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রকল্প দুটির অপমৃত্যু ঘটে। এরপর ৮০’র দশকে বিমান বন্দরের জন্য বাগেরহাট জেলার কাটাখালিতে পুনরায় স্থান নির্বাচন করা হয়। পূর্বের মত এ প্রকল্পটিও রয়ে যায় অন্ধকারে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অধিগ্রহণ করা হয় ৯৪ একর জমি। বাগেরহাট খানজাহান বিমান বন্দরের অধিগ্রহণকৃত ৯৪ একর জমি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থান্তর করা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাগেরহাট খানজাহান আলী বিমান বন্দরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯৯৭ সালে শুরু হয় বিমান বন্দরের মাটি ভরাটের কাজ। প্রায় ২৪ কোটি টাকায় আংশিক মাটি ভরাট করা ছাড়া তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খানজাহান বিমান বন্দর নির্মাণে আর কিছুই করা হয়নি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে আবার শুরু হয় মাটি ভরাটের কাজ। এক পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দের অভাবে কয়েক মাসের মধ্যে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর খানজাহান বিমান বন্দর প্রকল্পের আর কোন কাজ হয়নি।
এ অবস্থার পর ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান রামপালের ফয়লায় বিমান বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন তিনি খানজাহান বিমানবন্দর নির্মাণের প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয় ২০১৩ সালের এপ্রিলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দেয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে কুয়েট বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বিমান বন্দর নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে দ্রুত এই বিমান বন্দর নির্মাণে প্রথম ধাপে ছোট বিমান ওঠানামার জন্য ২৫০ কোটি টাকা ও দ্বিতীয় ধাপে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।
কুয়েট বিশেষজ্ঞদের এ’দুটি প্রস্তাবনার বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বিমান বন্দরটি নির্মাণে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যায় একটি প্রকল্প তৈরী করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
খানজাহান বিমান বন্দর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে আরও ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের মধ্যে এই বিমান বন্দরটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
এমজেড/আরআইপি