ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

২০ হাজার টাকা হলেই সুস্থ হয়ে উঠবে নুর নাহার

প্রকাশিত: ০২:০২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৭

ফুটফুটে মেয়ে নুর নাহার। বয়স ৯ বছর। এই বয়সে তার মতো শিশুরা হেসে খেলে বেড়ালেও, হাসি নেই নুর নাহারের মুখে। কখনো কখনো খেলার জন্য তার বয়সী শিশুদের কাছে গেলে অন্যরা ভয়ে পালিয়ে যায় তাকে দেখে। তখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে নুর নাহার। এ কারণে সব সময় মুখটা কেমন যেন মলিন হয়ে থাকে তার। সবাই যখন মজা করে তখনও চুপচাপ থাকে সে। কোমরের নিচে (পেছনের অংশে) টিউমার হয়েছে তার। বেশ বড় আকৃতির।

এ কারণে কখনো বসতে পারে না সে। না পারে দৌড়াতে, না পারে শান্তিমতো ঘুমাতে। ব্যথা না থাকলেও অসুবিধার যেন শেষ নেই কোনো কিছুতেই। তবুও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে। স্থানীয় সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুর নাহার।

পাবনার বেড়া উপজেলার কাপাসডাঙ্গা মণ্ডলপাড়া গ্রামের দিনমজুর সিদ্দিক মণ্ডলের মেয়ে নুর নাহার। নিজের জমি বলতে কিছু নেই তার। কয়েক শতক জমির ওপর বাড়িটিই একমাত্র সম্বল। অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে চলে তার পাঁচ সদস্যের সংসার।

Nurnahar
 
বাবা সিদ্দিক মণ্ডল জানান, নুর নাহারের জন্মের পর থেকে তার কোমরের নিচে (পেচনের অংশে) ছোট টিউমার ধরা পড়ে। তখন বুঝতে পারিনি। মেয়ে বড় হওয়ার সাথে সাথে টিউমারও বড় হচ্ছে। তিন বছর বয়সে প্রথম অবস্থায় পাবনার হামিদা ক্লিনিক ও মিতু ক্লিনিকে ডাক্তার দেখিয়েছি। কাশিনাথপুরের স্থানীয় একজন ডাক্তারকেও দেখিয়েছি।

তারা সবাই বলছেন, এ টিউমার অপারেশন করা যাবে না। করলে মেয়ে বাঁচবে না। এই চিন্তা থেকে কোনো ডাক্তার দেখাইনি। একজন ঢাকায় নেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু টাকা না থাকায় ঢাকায় নিতে পারিনি।

রোববার বিকেলে নুর নাহারকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নুর নাহারকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ও এক্স-রে করে দেখেন ডা. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, নুর নাহারের টিউমারটি জন্মগত। মেডিকেলের ভাষায় একে ‘সেক্রো কক্সিজিয়াল টেরাটোমা’ বলা হয়। মেরুদণ্ডের নার্ভের সঙ্গে সংযোগ থাকতে পারে টিউমারটির। তাই অপারেশনে একটু ঝুঁকি আছে। তারপরও অপারেশন করা সম্ভব এবং রোগী সুস্থ হবে।

Nurnahar
 
ডা. সিরাজুল আরও জানান, এ অপারেশন ঢাকা অথবা রাজশাহীর যেকোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা যাবে। সেখানে অপারেশনের জন্য কোনো খরচ হবে না। শুধু ওষুধপত্রের জন্য ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হবে। সব মিলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগবে। আর বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ সার্জন দিয়ে অপারেশন করালে এক লাখ টাকার মতো খরচ হবে।

কিন্তু এই টাকাও জোগাড় করার ক্ষমতা নেই দিনমজুর বাবার। তিনি মেয়ের সুস্থতার জন্য সমাজের হৃদয়বানদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

নুর নাহারের ব্যাপারে আরো জানতে যোগাযোগ করতে পারেন মামা হাসমতের মোবাইল ০১৭৮০-৪৫১৪৮০ নম্বরে (বাবার মোবাইল নেই)। নম্বরটি বিকাশ করা রয়েছে। এছাড়া মোবাইল নম্বরটির শেষে ৮ যোগ করে সাহায্য পাঠাতে পারেন  ডাচ্‌-বাংলা-রকেটের মাধ্যমেও।

এমএএস/জেআইএম