ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শরণখোলায় ফসলী জমিতে অর্ধশত ইটভাটা

প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ২৬ মার্চ ২০১৫

সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলায় চলতি বছরে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত অবৈধ ইটভাটা। এসব ভাটায় গোপনে ব্যবহার করা হচ্ছে সুন্দরী জ্বালানীসহ হাজার হাজার মণ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় জ্বালানী কাঠ।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে কৃষি জমিতেই এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব ইটভাটা অনেকটা বাঁধাহীনভাবেই নির্মাণ করে চলছে।  স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের  অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করেই তৈরী করা হচ্ছে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ্য  ইটভাটা।

অবৈধ ইট ভাটার মালিকরা ফসলি জমি দখল করে প্রতি বছর নানা অজুহাতে ইট পুড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়না তেমন কোন উদ্যোগ। গত এক সপ্তাতে দুটি ইটের ভাটা থেকে ইতোমধ্যে জব্ধ করা হয়েছে কর্তন নিষিদ্ধ ২শ মণ সুন্দরী কাঠ।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বন কর্মকর্তাদের চারপাশে ঘিরে থাকা কিছু অসাধু কর্মচারী ওই সকল অবৈধ ইটভাটার মালিকদের নিকট প্রশাসনের নাম ভঙ্গিয়ে মাসোয়ারা গ্রহণ করে প্রতিবছর ইট পোড়ানোর কাজে উৎসাহ দিয়ে আসছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সচেতন মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া।

সচেতন মহলের দাবি ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়ে নানা রোগ ব্যাধিসহ কৃষিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন ধরণের ইটের ভাটা বা পাজা স্থাপন করা যাবে না। এর বাইরে করতে হলে আইনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করতে হবে।

যেমন ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার ধোঁয়া নির্গমনের চুল্লি স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হলেও তার কোন বালাই নেই।  বিধি নিষেধ রয়েছে জনবহুল এলাকা বা ফসলি জমিতে ইট ভাটা নির্মাণের। ইট পোড়াতে দেশী বা বনজ কোন ধরণের  কাঠ ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাঁধ বিচার ছাড়াই গোপনে চলছে সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ গাছের যথেচ্ছ ব্যবহার।

এসবের তোয়াক্কা না করে সুন্দরবন সংলগ্ন শরনখোলা উপজেলার সাউথখালী, রায়েন্দা, ধানসাগর ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী, সোনাতলা, চালিতাবুনিয়া, বান্দাঘাটা, রাজাপুর, উত্তর রাজাপুর, খোন্তাকাটা সহ বিভিন্ন গ্রামে এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ইট পোড়াচ্ছেন।

এ সুযোগে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার চোরাকারবারিরা  বনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বনের মূল্যবান সুন্দরী কাঠসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ কেটে এসব ইটের ভাটায় চড়া দামে বিক্রি করছে।

এছাড়া দেশী কাঠেরও বেশি মূল্য দেয়ায় দরিদ্র লোকেরা ছোটবড় গাছ নির্বিচারে কেটে বিক্রি করছে। ফলে উজাড় হচ্ছে বনজ ও স্থানীয় গাছপালা। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। চলতি বছরে একমাত্র শরনখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইট পোড়ানোর জন্য অর্ধশত ইট ভাটার পাজা স্থাপন করা হয়েছে ঘন বসতি এলাকাসহ ফসলি জমিতে।

পুর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরনখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বন সংলগ্ন ইটভাটাগুলোতে সুন্দরী জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ওই সকল ইট ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ অতুল মণ্ডল জানান, এই মৌসুমে ইট পোড়ানোর কাজে সুন্দরবনের কাঠ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন গত সপ্তাহ খানেক আগে ইটের পাজা থেকে ২শ মন সুন্দরী কাঠ জব্ধ করা হয়েছে।  প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইটভাটা স্থাপন বা পোড়ানোর কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। যারা এ অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমজেড/এমএস