ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিক্ষার্থীর নাকে ঘুষি মারলেন শিক্ষক

প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৭

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় প্রাইভেট না পড়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুল আল ইবনে মামুনকে (১৮) বেধড়ক মারধর করেছেন কলেজশিক্ষক। শনিবার বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া পুনমচাঁদ ভুতরিয়া কলেজে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম প্রাইভেট না পড়ার জেরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মামুনকে কলেজ মাঠে পিটিয়ে আহত করে। আব্দুল আল ইবনে মামুন হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

চিকিৎসাধীন আব্দুল আল ইবনে মামুন জানায়, বাউড়া পুনমচাঁদ ভুতরিয়া কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক ফরিদুল ইসলামের কাছে কলেজের সিংহভাগ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে। প্রাইভেট পড়ার জন্য বেশ কয়েক দিন চাপ সৃষ্টি করেন শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম।

কিন্তু মামুনের বাবা মজিবর রহমান দিনমজুর হওয়ায় প্রাইভেট পড়া সামর্থ্য হয়নি তার। এ ঘটনায় মামুনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন ওই কলেজ শিক্ষক। বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের ক্লাস না করায় শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম তাকে পিয়ন দিয়ে ডেকে এনে প্রথমে মাথার চুল ধরে সজোরে নাকে ঘুষি মারেন।

এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মামুন। পরে তাকে আবার চুল ধরে মাটি থেকে তুলে উপর্যুপুরি চড়-থাপ্পড় ও কিলঘুষি মারেন প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম।

ফলে মামুনের ডান কান ও নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এ অবস্থায় অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে মামুনকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মামুনের মা আসমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই তিনবেলা ঠিকমতো ভাত জোগাতে পারি না। সেখানে অসুস্থ ছেলেকে রংপুর নিয়ে চিকিৎসার খরচ পাবো কোথায়? আর পরীক্ষার আগে আমার ছেলে যদি সুস্থ না হয়, তাহলে তার লেখাপড়া করার এতদিনের স্বপ্ন ধুলায় মিশে যাবে! তাই এ ঘটনায় আমি অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল ইসলামের মুঠোফোনে গত দুদিন ধরে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাউড়া পুনমচাঁদ ভুতরিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে কলেজের তিন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী মামুনকে কান ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রবিউল হাসান/এএম