নওগাঁয় এসিআই কারখানার পানিতে হুমকির মুখে বোরো ক্ষেত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এসিআই ফুডস লিমিটেড (রাইস ইউনিট) কারখানার বিষাক্ত পানি ও বর্জ্য যত্রতন্ত্র ফেলায় দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের ফসলসহ আবাদি জমি।
ওই কারখানার বিষাক্ত পানি ও বর্জ্যের ফেনা থেকে পরিবেশ ও ফসল রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। 
এদিকে বিষাক্ত বর্জ্য ও পচা পানি থেকে আবাদি জমির ফসল রক্ষা করতে ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়া আঞ্চলিক অফিস বরাবর গণস্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরস্বতীপুর বাজারের পাশে লোকালয়ে গত বছর এসিআই ফুডস লিমিটেড কারখানাটি স্থাপিত হয়। ওই কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও বর্জ্য নওগাঁর নওহাটা-মহাদেবপুর আঞ্চলিক সড়কের সড়ক ও জনপদের নালা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ওই পানি তালতলি ব্রিজ হয়ে কারখানা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে খোর্দ্দনারায়নপুর মাঠে সরাসরি ইরি-বোরো ধানের জমিতে পরছে। এতে প্রায় ৫০ বিঘা ইরি-বোরো ধানের ক্ষেত কালো, লাল রংয়ের ফেনাযুক্ত দুর্গন্ধ পানিতে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া আরো ৭শ বিঘা বোরো ক্ষেত ও বীজতলা বিভিন্ন ফসল চাষ হুমকির মুখে রয়েছে। গত আমন মৌসুমে দূষিত পানির কারণে ফলনের বিপর্যয় ঘটায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অব্যবস্থাপনায় গত বছর থেকে কারখানাটির আশপাশের জমিতে ফসলের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটছে। এছাড়া লোকালয়ে গড়ে উঠায় কারখানাটির শব্দেও সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতেও বিকট শব্দে ঘুমের ব্যঘাত ঘটছে স্থানীয়দের। বাতাসের সাথে ছাই ও ধুলিকনা উড়ে বিভিন্ন ফল গাছের পাতায় স্তুপ হয়ে পড়ায় মুকুলও ঠিকমতো আসছেনা। ফাঁকা স্থানে শুকাতে দেয়া কাপড়গুলোও ছাই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পথচারিদের চোখে ছাইপড়ে চলাচলের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোন মুর্হূতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংঙ্খা করছেন স্থানীয়রা।
কারখানার পাশের জমির মালিক আব্দুল লতিফ জাগো নিউজকে বলেন, মহিষপুকুরিয়া মাঠে আমার প্রায় ১৫ বিঘার মতো জমি আছে। গত বছর আমন মৌসুমে কারখানা থেকে উড়ে আসা ছাইয়ের কারণে ধানের রং ও ফলন ভালো হয়নি। এছাড়া দেড় বিঘা জমির ধান একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। ছাইয়ের কারণে বিভিন্ন ফলের গাছে মুকুলও আসছে না। কারখানার কর্তৃপক্ষ ওই জমিটি কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু উপযুক্ত দাম না বলায় বিক্রি হয়নি।
খোর্দ্দনারায়নপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগানো হয়েছে। কারখানা থেকে আসা দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ফসলের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কারখানার বিকট শব্দে রাতের কয়েকটি গ্রামের মানুষের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া কৃষক আসলাম আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক, হাসেন আলীর, রিপন মন্ডল, মজ্জিম হোসেন, আমজাদ আলী বলেন, তালতলি ব্রিজের নিচে খাড়িতে বাধ দিয়ে রাখায় সেখানে পানি জমা হয়ে আছে। যেকোনো মুর্হূতে বাধটি ভেঙে গেলে আরো শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এসিআই ফুডস লিমিটেডের ডিজিএম বেদার উদ্দিন আহমেদ জানান, এসিআই আসছে এলাকাবাসী ও এসিআইয়ের উন্নয়নের জন্য। কোনো লোকের এতোটুকু ক্ষতি করার ইচ্ছে এসিআইয়ের নাই। কোনো সমস্যা হলে সেটা আমরা আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করার চেষ্টা করব। এছাড়া সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমরা সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নিয়ম আছে পানি ঠাণ্ডা হওয়ারপর জলাধারে দেয়া যাবে। তবে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এমন বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
এমএএস/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ দশ দিন বন্ধ থাকার পর সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ রুটে স্পিডবোট চলাচল শুরু
- ২ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় যাত্রীর চাপ বাড়লেও ভোগান্তি নেই
- ৩ কুড়িগ্রামের আকাশে রহস্যময় সাদা-লাল রেখা, ‘মিসাইল’ আতঙ্কে স্থানীয়রা
- ৪ সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ময়মনসিংহের যুবকের মৃত্যু
- ৫ মন্দা দামের মাঝে বৃষ্টি আঘাত, দিশাহারা আলুচাষিরা