দেশে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা
জীবনের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব পেলে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। সোমবার দ্বিতীয়দিনের মতো ক্যাম্প পরিদর্শনে এলে রাখাইন কমিশনকে এসব কথা জানান রাখাইন স্টেটের নিপীড়িতরা।
এ সময় তাদের ভবিষ্যত চাওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রোহিঙ্গারা বলেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে স্বাধীনভাবে দেশে ফিরবো আমরা।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নোমান।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি গঠিত রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশনের সদস্যরা দ্বিতীয়দিনের মতো সোমবার বেলা ১০টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন।
রাখাইন স্টেটে মিয়ানমার সেনা-পুলিশের নিপীড়নের শিকার গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত জামবুনিয়ার আমির হোসেন, দুই ছেলে ও মেয়েকে হারিয়ে এখানে আসা মুহাম্মদ জহুর, স্ত্রী ও মেয়ের নির্মম হত্যার দৃশ্য দেখে আসা হোসেন আহমদসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪০ নারী, ১৮ শিশু ও ১২ জন পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন কমিশন সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে নিজ দেশে নির্যাতনের বর্ণনা মনোযোগ দিয়ে শুনেন তারা।
ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, রেজিস্ট্রার ক্যাম্প থেকে কমিশন সদস্যরা অনিবন্ধিত বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তাদের ভবিষ্যত চাওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রোহিঙ্গারা বলেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে স্বাধীনভাবে দেশে ফিরবো।
তাদের দাবি, মিয়ানমারে ১৪৭ জাতের মধ্যে রোহিঙ্গা ছাড়া বাকি সবার নাগরিকত্ব রয়েছে। তাই নিজ জন্মভূমি হলেও পরবাসীর মতোই জীবন কাটাতে হয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কাজে লাগিয়ে পারিশ্রমিক দেয়া হয় না। তাদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ ক্যাম্পে দুর্বৃত্ত হামলার সূত্র ধরে রোহিঙ্গাদের জমি দখল, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যা-গুম ও নারীদের গণধর্ষণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই জীবন বাঁচাতে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। আশ্রয় পেলেও তারা বাংলাদেশে থাকতে চান না। নাগরিক মর্যাদা পেলে তারা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব মিয়ানমার ফিরে যেতে চান। এটি নিশ্চিত করতে কমিশন সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন রোহিঙ্গারা।
এ সময় ক্যাম্প এলাকায় নানা ফেস্টুনসহ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন নির্যাতিত রোহিঙ্গারা।
শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বেলা ২টার দিকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন রাখাইন কমিশনের সদস্যরা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তারা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, রাখাইন কমিশনের সদস্য মিয়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা, আই লুইন এবং লেবাননের নাগরিক ঘাসান সালামেসহ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা সোমবার সকালে দ্বিতীয়দিনের মতো উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে ফিরে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে বিশেষ সভায় মিলিত তারা।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে রাখাইন কমিশন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি সম্পর্কে জানতে চান। যুক্তিতে মিয়ানমারের অভিযোগ ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাখাইন স্টেটে সংগঠিত ঘটনায় বাংলাদেশি জড়িত বলে মিয়ানমারের দাবিকে কল্প-কাহিনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি