ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রগকর্তন, আহত-১০

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৫

শরীয়তপুরের নড়িয়ার গাগড়ীজোড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লিটন মাল নামের একজন ব্যক্তি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং আলহাম মুন্সির পায়ের রগকর্তনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ৭টি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট ও  একটি বসত ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গাগড়ীজোড়া গ্রামের আমির হোসেন মুন্সি জানান, নড়িয়া উপজেলার গাগড়ী জোড়া গ্রামের বিএনপি সমর্থক সামসুদ্দিন সরদার ও আওয়ামী লীগ সমর্থক তাজুল সরদার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যায় তাজুল সমর্থক আলহাম মুন্সি ও জহিরুল মুন্সিকে শরীয়তপুর শহরের রাজগঞ্জ ব্রীজের নিকট গতিরোধ করে মারধর করা হয়।  

আলহাম মুন্সিকে পায়ের রগ কর্তন করে দেয় প্রতিপক্ষের লোকেরা । এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ সমর্থক  তাজুল গ্রুপের সমর্থকরা বিএনপির সমর্থক সামসুদ্দিন সরদারের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করে।

ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির সমর্থক সামসুদ্দিন সরদারের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র  ঢাল শরকী, রামদা, ছেনদা, লাঠিসোটা  ও ককটেল নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থক তাজুল গ্রুপের আব্দুল জব্বার মুন্সি, খলিল মুন্সি, হারুন সর্দারের বাড়িতে ৭টি ঘরে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে  ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা তাজুল গ্রুপের আব্দুল জব্বার মুন্সির বসত ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।  এতে  প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়। ঘন্টাব্যাপী  এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।  এ সময় বিএনপির সমর্থকরা কমপক্ষে ২০টি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটান এবং গুলি ছোড়েন।

এতে লিটন মাল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায়  জহির মুন্সি, কামাল মুন্সি , মনির খান ,আলাল শেখ ও জহির ছৈয়াল আহত হন। গুলিবিদ্ধ আহত লিটন মালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় খমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

লিটন মালের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, শামসুদ্দিস সরদার তার লোকজন আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর লুটপাট করে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। এ সময় আমার  স্বামীকে গুলি করে গুরুতর আহত করে।  

সামসুদ্দিন সরদার বলেন, তাজুল সরদারের নেতৃত্বে লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষ হয়।

তাজুল সরদার বলেন, বিএনপির সমর্থক শামসুদ্দিন সর্দার শতাধিক লোকজন নিয়ে আমার সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাঙচুর লুটপাট করে ও বসত ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ ঘটনায় সামসুদ্দিন সর্দারের সমর্থকরা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোড়েন। এতে আমার লোকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।

নড়িয়া থানা ওসি শেখ কবীরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে  ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।

এমজেড/আরআইপি