ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভালোবাসা দিবসে পাখির জন্য নীড় তৈরি

প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ঝালকাঠিতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে পাখির নীড় তৈরি করে জীবের প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কয়েকজন যুবক। ‘নির্ভয়ে ভালোবাসায় থাকবে পাখি নীড়ে’ এই প্রতিপাদ্য  নিয়ে গাছে গাছে বাঁধবো পাখির নীড় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের আম ও বড়ই গাছে হাঁড়ি বেঁধে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক, সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বুলবুল আহমেদ, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদ হোসেন, শিরিন শারমিন, সমাজ সেবক শোয়েবুর মোর্শেদ সোহেলসহ আয়োজক উদীয়মান তরুণ যুবকরা উপস্থিত ছিলেন।

jhalakati
কর্মসূচি উদ্বোধনের পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পেছনের নির্জন স্থানের বিভিন্ন গাছে ১০০টি মাটির হাঁড়ি বাঁধা হয়েছে। সকাল থেকে শুরু করে শেষ বিকেল পর্যন্ত হাঁড়ি বেঁধে নীড় তৈরির কাজ করে পাখি প্রেমিকরা।

আয়োজক কমিটির সাইফুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, পাখির অবাধ বিচরণ কেন্দ্র ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় পাখির প্রজননও হ্রাস পাচ্ছে। একারণে আমরা কয়েকজনে মিলে গাছে গাছে হাঁড়ি বেঁধে পাখির নিরাপদ নীড় তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে যাতে হাঁড়ির ভেতরে পানি ঢুকে জমে না থাকে সেজন্য হাঁড়ির নিচে ছিদ্র করে দেয়া হয়েছে।

সমাজ সেবক শোয়েবুর মোর্শেদ সোহেল বলেন, আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল এখন বিলুপ্ত প্রায়। কোথাও এখন আর দোয়েল দেখা যায় না। এক সময়ে বাচ্চাদের কাছে দোয়েল পাখি ও তার সুকণ্ঠের শীষ রূপকথার গল্প হয়েই থাকবে। গাছে গাছে হাঁড়ি বেঁধে নীড় তৈরি করার ফলে পাখি থাকার নিরাপদ আশ্রয় পাবে।

jhalakati
ঝালকাঠি সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত বনায়ন ও অবাধ বৃক্ষ নিধনের ফলে পাখির অভয়াশ্রয় হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর পাখির ডাক শোনা যায় না। গাছে গাছে নীড় তৈরির ফলে এখন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি থাকার জন্য নিরাপদ জায়গা পাবে।

ঝালকাঠি সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক শিরীন শারমিন জানান, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, পাখি শিকার, বৃক্ষ নিধন ও সংকুচিত আবাস স্থলের ফলে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। নিরাপদ আশ্রয় স্থান এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য ব্যবস্থা না থাকার কারণে পাখির প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে দিন দিন কমে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। উদীয়মান কয়েকজন পাখি প্রেমি যুবক বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে গাছে গাছে হাঁড়ি বেঁধে পাখির প্রতি যে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এটা অবশ্যই অনুকরণীয়। এর ফলে পাখি নিরাপদ স্থানে থাকার সুযোগ পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, যে সময়ে ছেলেদের পাখি শিকার করার কথা। সেই সময়ে পাখি শিকার না করে পাখিদের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছে। এটা আসলেই অনুকরণীয়।

আতিকুর রহমান/আরএআর/পিআর