এসপিপত্নী মিতুর সিম ব্যবহারকারী মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ
সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম খুনের সাড়ে আট মাস পর ব্যবহৃত মোবাইলের সিমটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার ভোলার লালমোহন এলাকার এক রিকশাচালকের কাছ থেকে সিমটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি।
গত ২৬ জানুয়ারি মাহমুদার মা-বাবা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে মাহমুদার ব্যবহৃত সিমটি সচল রয়েছে জানিয়ে তা উদ্ধারের অনুরোধ করেছিলেন।
ভোলার লালমোহন থেকে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর মোবাইল সিম ব্যবহার করা রিকশাচালক মান্নানকে (২৫) চট্টগ্রামে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ লালমোহন চরভূতা ইউনিয়ন থেকে ওই রিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান। রিকশাচালক মান্নান ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের মফিজুল ইসলামের ছেলে।
এ ব্যাপারে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফউদ্দিন শাহীন জানান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কার্যালয় থেকে এক চিঠিতে ভোলার পুলিশ সুপারকে সহযোগিতা করতে বলা হয়। তবে এ অভিযানে লালমোহন থানা পুলিশ ও ভোলার ডিবি পুলিশ অংশ নেয়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের মান্নান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সিমটি উদ্ধার করে।
মান্নান পেশায় রিকশাচালক। সিমটি উদ্ধার করা হলেও মিতুর মোবাইল ফোনটি মান্নানের কাছে পাওয়া যায়নি। মান্নান এক সময় চট্টগ্রামে রিকশা চালাতেন। নগরীর বাকলিয়া এলাকার রাস্তায় কয়েক মাস আগে সিমটি খুঁজে পান বলে মান্নান দাবি করেছেন।
তবে ঠিক কোন সময় মান্নান সিমটি পেয়েছেন তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। মান্নান কিছু দিন ঢাকায় অটোরিকশা চালিয়েছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
গত ২৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে মিতুর মা সাহেদা মোশাররফ নীলা সাংবাদিকদের বলেন, মিতুর মোবাইল ফোনটি এখনও সচল আছে। ঢাকার এক অটোরিকশাচালক মোবাইল সিমটি ব্যবহার করছেন এবং তার সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান মিতুর বাবা।
গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানমকে। এ ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তার (তখন পুলিশ সুপার ছিলেন) অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।
এরপর ২৪ জুন মধ্যরাতে ঢাকার বনশ্রী এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আবার বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।
গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাবুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো।
মিতুর সিম উদ্ধারের বিষয়টি জানতে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি জানান, রিকশাচালক মান্নানের কাছ থেকে সিমটি উদ্ধারের পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও প্রতিটি ছোটখাট বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইফ আমীন/এএম/আরআইপি