প্রাণ ফিরে পাচ্ছে টাঙ্গাইলের লৌহজং নদী
দখল-দূষণে সরু খালে পরিণত টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী লৌহজং নদী অবশেষে ফিরে পাচ্ছে প্রাণ। লৌহজং নদী পুনরুদ্ধার ও দুইপাড়ে সড়ক নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গত সোয়া দুই মাসের চলমান কাজে নদীটি তার অবয়ব ফিরে পেতে শুরু করেছে।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর শুরু হওয়া লৌহজং নদী পুনরুদ্ধার ও পরিস্কার-পরিচ্ছনতার কাজ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আসছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বুধবার সকালে লৌহজং নদীর কার্যক্রম পরিদর্শন ও স্বেচ্ছাসেবকদের দিক-নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন। তিনি মীরের বেতকায় লৌহজং নদীর মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনটি অপসারণে জরিপকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুনিরা সুলতানা, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম সুজন, সাংবাদিক, টাঙ্গাইল সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধিসহ নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, লৌহজং নদীর টাঙ্গাইল শহরের ১০ কিলোমিটার এলাকায় নদী পুনরুদ্ধার ও দুইপাড়ে সড়ক নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নদীর ৬ কিলোমিটার এলাকা দখল মুক্ত হয়েছে। নদীর দুই পাড় দিয়ে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। খননের মাধ্যমে আরও গভীর করা হবে লৌহজং নদী।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে লৌহজং পুনরুদ্ধার ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার এই উদ্যোগকে ‘শুভ’ হিসেবে দেখছেন শহরবাসী। শহরবাসীর মাঝে এ নিয়ে উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা গেছে। লৌহজং নদীর দুই পাড়ের জায়গা দখলকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশে কর্তব্যরত সেচ্ছাসেবকরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পুনরুদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। 
কুমুদিনী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসন লৌহজং নদী পুনরুদ্ধার ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো জনগণকে সম্পৃক্ত করা। নদীর দুই পাড়ে যে রাস্তার নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে শহরের যানজট অনেকটাই কমে যাবে। অনেক উন্নত দেশেই এ ধরনের ব্যবস্থা আছে। এটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশে একটি মডেল হবে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, লৌহজং নদী পুনরুদ্ধার, খনন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। তখন লৌহজং নদী পুরোমাত্রায় তার অবয়ব ফিরে পাবে, টাঙ্গাইলবাসীও এর সুফল ভোগ করবে।
তিনি আরও জানান, কোনো স্থাপনা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাংবাদিক, প্রতিটি পেশার প্রতিনিধি ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঢালান-শিবপুর থেকে মির্জাপুরের বংশাই নদী পর্যন্ত প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লৌহজং নদী। নদীর অবয়ব পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপে কাজ চলছে- এটা চলমান থাকবে। তবে, যেসব ভূমিহীন পরিবার পুনরুদ্ধার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উচ্ছেদের পরে ওই স্থানগুলোতে পুনরায় কেউ যাতে আসতে না পারে তাও দেখা হবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদীটি দখল আর দূষণের ফলে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘ ৫০ বছর পর গত বছরের ২৯ নভেম্বর সকাল থেকে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপসহ কয়েক হাজার সদস্য।
এর আগে কয়েক মাস যাবৎ লৌহজং নদী দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরে মাইকিং, নদীর ধারে মানববন্ধনসহ ফেসবুকে জনমত গঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ‘লৌহজং নদী রক্ষা করি, পরিবেশ বান্ধব টাঙ্গাইল গড়ি’ স্লোগানে সেচ্ছাসেবকরা এ পুনরুদ্ধার অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে।
আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/পিআর
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ গণভোট প্রচারে ইমামদের সহযোগিতা চাইলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা
- ২ ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের ১০ যুবক নিখোঁজ, দিশেহারা পরিবার
- ৩ ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ারের বিলবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ
- ৪ নির্বাচন ঘিরে উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ডের কঠোর নিরাপত্তা
- ৫ নুরের হয়ে কাজ করায় ছাত্রদল নেতাকে হুমকির অভিযোগ মামুনের বিরুদ্ধে