ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাজীপুরে আরেক জঙ্গির পাঁচ দিনের রিমান্ড

প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৭

গাজীপুরের টঙ্গীতে হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীসহ ১৯ আসামিকে বহনকারী প্রিজনভ্যান লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপকারী গ্রেফতার জঙ্গি মোস্তফা কামালের আরেক সহযোগী আব্দুল আজিজ কাউসারকে (২২) মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে পুলিশ তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আমির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার নরসিংদীর মাধবদীর শেখেরচর জামিয়া ইমদাদিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে কাউসারকে গ্রেফতার করা হয়। সে  গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেলে গাজীপুরের অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক ফারহা মামুন তার (জঙ্গি আব্দুল আজিজ কাউসার) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইদিন ওই আদলতে জঙ্গি মোস্তফা কামালের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক তার তৃতীয় দফায় চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ইতোপূর্বে দুই দফায় মোস্তফাকে আটদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এছাড়া গত বুধবার একই ঘটনার মামলায় নরসিংদী থেকে গ্রেফতার মিনহাজের গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার তার নয়দিন রিমান্ডের আবেদন করলে আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে দুই দফায় তাকে পুলিশ ছয়দিনের রিমান্ডে নিয়েছিলেন।  মিনহাজুল ইসলাম (২০) নরসিংদীর মনোহরদী থানার কাটিকাটা উত্তর এলাকার  মো. রতন মিয়ার ছেলে। মিনহাজ ও কাউসার নরসিংদীর একই মাদরাসার ছাত্র।

গত ৬ মার্চ বিকেলে টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় মুফতি হান্নানসহ ১৯ আসামিকে বহনকারী প্রিজনভ্যান লক্ষ্য করে বোমা হামলার দিন ঘটনাস্থল থেকে মোস্তাফা কামালকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বোমা ও চাপাতিসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ হেফাজতে জ্ঞিাসাবাদ মোস্তফা কামাল তার সহযোগী মিনহাজের নাম-ঠিকানা দেয়।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীসহ ১৯ আসমিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার হাজিরার জন্য কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৬ মার্চ সকালে ঢাকায় আদালতে পাঠানো হয়। হাজিরা শেষে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুরের ওই কারাগারে ফিরিয়ে আনার পথে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গীর কলেজ গেইট এলাকায় পৌঁছালে প্রিজনভ্যান এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে মোস্তফা কামাল হাত বোমা নিক্ষেপ করে।

এ সময় দুটি বোমা রাস্তায় পড়ে বিস্ফোরিত। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি এবং প্রিজন ভ্যানেও বোমা লাগেনি। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ব্যাগসহ তাকে আটক করে পুলিশ। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে দুই রাউন্ড গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি পেট্রোলবোমা, পাঁচটি ককটেল, চাপাতি, বোমা তৈরির লোহার বল, মোবাইল ফোন ইত্যাদি উদ্ধার করে।

আটক মোস্তফা কামাল ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার পাগুলি (বন্দেরবাড়ি) গ্রামের মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে নরসিংদীর মাধবদীর শেখেরচর জামিয়া ইমদাদিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

এ ঘটনার পরদিন টঙ্গী থানা পুলিশের এসআই অজয় কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আটক মোস্তফা কামালসহ আরো অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/এমএস