ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শ্রেণিকক্ষ থাকলেও ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০৭:৩৮ এএম, ১৯ মার্চ ২০১৭

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মধ্যনরসিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণের কয়েক বছর না যেতেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণের ৮ বছরের মাথায় ফাটল ধরে ভবনটিতে। পরে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে করে ভবন থাকলেও শ্রেনিকক্ষ সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান ও ঠিকাদার একজোট হয়ে এ দুর্নীতি করেন। নিজে সুবিধা নিতে ঠিকাদার ভবন নির্মাণে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে জেনেও মজিবুর রহমান কোনো কর্ণপাত করেননি।

তবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে ভবন নির্মাণে অনিয়মের জন্য ওই সময়ের বিএনপি নেতাদের দায়ী করেছেন।

স্কুলের ভবন নির্মাণের ৮ বছরের মাথায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় স্কুলের শিক্ষকসহ অভিভাবকমহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের সভাপতি থাকা মজিবুর রহমানকে পদ থেকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছেন। তবে মজিবুর রহমান তার দুর্নীতির প্রতিবাদ না করার শর্তে সভাপতির পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন।

জানা যায়, ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যনরসিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফরের অর্থায়নে গত ২০০৫-২০০৬ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছর ভবনে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে ক্লাস করতে পারলেও ২০১৩ সালে হঠাৎ করে ভবনের একটি অংশে ফাটল দেখে ভয় পেয়ে যায়।

ওই সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ফাটলধরা স্থানে সিমেন্ট দিয়ে আস্তর দিয়ে দেন। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার জানান, স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে গত ৪ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া বন্ধ রয়েছে। এখন ওই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবনটি ভালো থাকলে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বসার ব্যবস্থা করা যেতো।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অভিযুক্ত সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, গত ৪ বছর ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করলে আমার কী করার আছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কথা স্বীকার করলেও নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শাহাদাত হোসেন/এফএ/আরআইপি