ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

প্রকাশিত: ০৫:৫০ এএম, ২০ মার্চ ২০১৭

প্রতি বছরই বাড়ছে শিক্ষার্থী। বাড়ছে শিক্ষার মান। ফলাফলও ভালো হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে পাঠদানে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জেলার বদলগাছী উপজেলার তেজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। শ্রেণিকক্ষের সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষক, অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার উন্নয়নে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ১৯৬৮ সালে তেজাপাড়া গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ২০০২ সালে চার কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি শ্রেণিকক্ষ এবং সবচেয়ে ছোট ঘরটি লাইব্রেরি ও অফিস কক্ষ। প্রধান শিক্ষকসহ এখানে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩২জন শিক্ষার্থী আছে। ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ১৪ জন অংশ নিয়ে দুইজন জিপিএ-৫সহ শতভাগ পাশ করেছে। ২০১৫ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ১২ জন অংশ নিয়ে দুইজন জিপিএ-৫সহ শতভাগ এবং ২০১৪ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ১৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করে।

সরেজমিনে রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়,  বেলা সাড়ে ১১টা। খোলা আকাশের নিচে বিছানা পেতে ২০/২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। তারা সবাই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তাদের সঙ্গে আবার গাদাগাদি করে বসে আছে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও। আর পাশেই স্কুলের বারান্দায় শিশু শ্রেণি শিক্ষার্থীদের মায়েরা অপেক্ষা করছে।

বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। বিদ্যুৎ ও ফ্যানের ব্যবস্থা, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগসহ আধুনিকায়ন করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে আধুনিকতার কোনো ছোয়া লাগেনি। বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে ছোট একটি ফ্যান অফিস কক্ষে চালানো হয়। বিদ্যালয়ের বাহিরে বসানো প্রকল্প থেকে পাওয়া একটি নলকূপ গত এক বছর আগে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ঘরের মধ্যে বসানো একটি নলকূপও গত ছয়মাস থেকে নষ্ট। সাপ্লাই পানির ব্যবস্থা থাকলেও অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনে পানি পাওয়া যায় না। প্রায় ৫০০ গজ দূরে গ্রামের ভেতর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। শীত ও বর্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট করে পড়াশুনা করতে হয়।

Naogaon

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেফতাহুল জান্নাত, শিশির, অর্নি, বুশরা জানায়, তারা যখন ৪র্থ শ্রেণিতে ছিল তখন খোলা আকাশের নিচে মাঠে এবং গাছের নিচে ক্লাস করতে হয়েছে। এতে পড়াশুনার সমস্যা হতো। রোদে গরম ও শীতের সময় ঠাণ্ডা লাগত। এখন পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার পর শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছে তারা।

অভিভাবক পারুল, রিতা ও খেলুন বলেন, ৩/৪ বছর থেকে বাচ্চারা খোলা আকাশের নিচে পড়াশুনা করছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মাঠে ক্লাস করায় বাচ্চারা সমস্যায় পড়ছে। এতে বাচ্চারা বিরক্ত বোধ করে। অনেক সময় স্কুলে যেতে চায় না। নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হলে বাচ্চাদের পড়াশুনা আরো ভালো হতো। ফলাফলও ভালো হবে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামিমা সুলতানা বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষার সময় বৃষ্টি আসলে একই শ্রেণিতে অন্য ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা এসে ভিড় জমায়। এতে ছাত্র-ছাত্রীরা হৈ-চৈ করায় ঠিকমত পাঠদান করাও সম্ভব হয় না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সাবেক এমপি ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বর্তমান এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেক বার শ্রেণি কক্ষ সংকটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ অবধি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নিজেদের অর্থায়নে গত বছর একটি টিনের ঘর করে সেখানে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। গত তিন বছরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গণিতে এ প্লাস পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসসহ ভালো ফলাফল করলেও বিদ্যালয়ের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তেমন গুরত্ব দেখছি না।

আরএআর/জেআইএম