ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সৈকতে ঈদের আমেজ

প্রকাশিত: ১১:৪৩ এএম, ২৫ মার্চ ২০১৭

পর্যটন মৌসুম শেষ প্রান্তে। অন্যদিকে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক মিলিয়ে তিনদিনের টানা ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। ২৭ মার্চ কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে চার দেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ইমার্জিং কাপ’। এর রেশ এসে পড়েছে সৈকত নগরী কক্সবাজারে।

সৈকতের বালিয়াড়িজুড়ে হঠাৎ ঈদের আমেজ বইছে। মৌসুমের শেষ সময়ে জমজমাট ব্যবসা হওয়ায় খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।

রাতে শহরের বিনোদনের জন্য সবাই ছুটছেন কলাতলীতে চলমান শিল্প ও বাণিজ্য মেলায়। চড়ছেন নাগরদোলা, ট্রেন, নৌকা রাইডসহ নানা খেলনায়। কিনছেন দেশী-বিদেশী পণ্য।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে পর্যটন নগরী। আগাম বুকিং হয়ে আছে কক্সবাজারের সাড়ে ৪০০ হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজসহ আবাসস্থল। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

কক্সবাজার গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, গেল থার্টি ফার্স্ট নাইট ইংরেজি বর্ষকে বিদায়-বরণ ও জানুয়ারির শীতকালীন অবকাশসহ সরকারি বিভিন্ন ছুটি উপভোগ করতে কক্সবাজারে এসেছিলেন প্রায় ৩ লাখ পর্যটক। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে পর্যটন ব্যবসায় একটি ধাক্কা লাগে।

Beach

টানা কয়েকদিনের ধর্মঘটের কারণে বাতিল হয়ে যায় পূর্ব থেকে নেয়া অনেক বুকিং। ফলে কালো ছায়া নেমে আসে পর্যটনে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন বাড়তে থাকে।

শুক্রবার সকাল থেকে জেলার পর্যটন স্পটসমূহে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববার মহান স্বাধীনতা দিবসসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে পূর্বের মতো চার লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বেলাভূমিতে।

অন্যদিকে শুক্রবার থেকে শহরের অভ্যন্তরে গাড়ি চলাচলে নতুন নিয়ম চালু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পর্যটকদের গাড়ি শহরে প্রবেশ করবে না। ফলে লিংক রোড, কলাতলী থেকে কলাতলী জাম্বুর মোড় পর্যন্ত আগের যানজটের ভোগান্তি থেকে অনেকটা মুক্তি মিলেছে। ফলে পর্যটকে ভরপুর হলেও চলাচলে ভোগান্তি নেই।

এতে আনন্দের মাঝেও কিছু কিছু হোটেল-মোটেল-রোস্তোরাঁয় গলাকাটা দাম নেয়ার অভিযোগ অনেক পর্যটকের। তাদের অভিযোগ, মৌসুমের শেষ সুযোগ হিসেবে তাৎক্ষণিক বুকিংয়ের ক্ষেত্রে হোটেল কক্ষের ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে। দালালদের মাধ্যমে বুকিং দেয়া পর্যটকরাই এ বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হোটেল মালিক বলেন, দালালদের সঙ্গে ৫০ শতাংশ ভাগাভাগির চুক্তি থাকায় বাধ্য হয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে বেশি দাম নিতে হচ্ছে হোটেল সংশ্লিষ্টদের।

সাগর বিলাস কটেজের মালিক শাহেদ আলী সাহেদ জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় এ বছরের পর্যটন মৌসুমে ভালো ব্যবসা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত টানা বুকিং রয়েছে আমাদের। আমরা কোয়ালিটি মেনটেইন করে সব সময় একই দাম রাখি। কেউ কেউ হয়তো চাহিদার সময়ে নীতি বির্সজন দিয়ে বদনাম কুড়ায়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সহ-সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, সৈকত নগরীর প্রায় সাড়ে ৪০০ আবাসিক হোটেলের অবস্থা সাগর বিলাস কটেজের মতোই। শেষ সময়ে টানা ছুটির টানা বুকিং পেয়েছে অধিকাংশ হোটেল। তারকা হোটেলগুলোর রুম ভাড়া সব সময়ই এক। তার ওপর মৌসুম ভেদে ডিসকাউন্ট থাকে। কিন্তু নন স্টার হোটেলগুলোর কারণে নানা ক্ষেত্রে বেশি দাম আদায়ের অভিযোগ শুনতে হয়। পর্যটনের স্বার্থে এটার একটা নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের বলয় কাজ করছে উল্লেখ করে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এইচ এম রায়হান কাজেমী বলেন, যে কোনো ট্যুরিস্ট এরিয়ায় পর্যটকরা হলো দেবতার মতো। তাদের সেবা দিতে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মুখিয়ে থাকে। আমারাও সেবা দাতাদের একটি অংশ। তাই পর্যটকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত এবারও লাবণী মোড, সুগন্ধা পয়েন্ট, মেইন বিচসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১২ জনের একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

মোটরসাইকেল নিয়ে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ডিউটিতে রয়েছে অপর টিম। এরা ছাড়াও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা বিভাগারে সদস্যরা একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে মাঠে রয়েছে।

সৈকত ছাড়াও পর্যটন স্পট ইনানী, সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, সোনাদিয়া, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, কদুম গুহা, রামুর রামকোট, ১০০ ফুট সিংহ শয্যা বৌদ্ধমূর্তি দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন। যাচ্ছেন বার্মিজ মার্কেট, শুঁটকি মহাল।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, পর্যটন মৌসুমের শেষ সময়ে টানা ছুটি ও শুরু হতে যাওয়া ইমার্জিং কাপ নিয়ে পর্যটকে টুইটম্বুর কক্সবাজার। তাই নিরাপত্তার বলও সেভাবে তৈরি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পর্যটন শহর হিসেবে আমরা সহজলভ্য সেবা নিশ্চিতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে। হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষকেও সে বিষয়ে বলা থাকে। যারা নীতি ভ্রষ্ট তারাই অভিযোগ সৃষ্টির কাজগুলো করে। পর্যটন এলাকায় ঘুরছে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি টিম। পর্যটকরা হয়রানির যে কোনো অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছালে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এআরএ/জেআইএম