প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত : প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া এমএম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালনে ব্যবহারের অনুমতি দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এর জেরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (আরেক গ্রুপ) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক আকনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
রোববার দুপুরের ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলে তালা লাগিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে সোমবার সকালে সাতুরিয়া এলাকার বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে।
এ সময় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবিরের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দেন।
এরপর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও যুদ্ধাপরাধী মৃত আ. ছত্তার হাওলাদারের ছেলে।
প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক আকন অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের অনুষ্ঠান শেষে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান ওবায়েদ মিয়ার বাসায় যাওয়ার পথে স্কুলের মাঠ নিয়ে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয় হুমায়ুন কবির। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক ও স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান ওবায়েদ মিয়া বলেন, তাৎক্ষণিক বিষয়টি শুনে তাদের মিলিয়ে দেই। বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানে জরুরি মিটিং ডেকে সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড বরাবরে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।
রাজাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, সড়ক অবরোধের খবর শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে এবং সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রধান শিক্ষককে শারীরিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত সাতুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, স্কুলের সকল বিষয় প্রধান শিক্ষক তার ইচ্ছে মতো করেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি সভাপতি তার বাসায় বসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।
মোঃ আতিকুর রহমান/এএম/আরআইপি