পানগুছিতে ভেসে ওঠা ৭ মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১৮ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী টিমের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তারা বিভিন্ন এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের নিকট হস্থান্তর করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মাসুদার রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে, আব্দুল মজিদ (৭৫), আনছার হাওলাদার (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), নাজমুল সেখ (৬), মোরেলগঞ্জের বাশবাড়িয় গ্রামের আলম চাপরাশীর স্ত্রী ছালমা (৩০) ছেলে সাজ্জাদ (২) ও রায়েন্দা পাইলট স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র আবির আল শামস।
তৃতীয় দিয়ের উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল। ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন এলাকায় মরদেহের সন্ধানে অভিযান চলছে। এখনো তালিকা অনুযায়ী ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকতা আরও জানান, নতুন করে আর মরদেহ মেলেনি। সকালে নদীতে ভাটার সময়ে পানি কম থাকায় প্রায় একই স্থান থেকে ওই ৭টি মরদেহ পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার সকালে প্রমত্তা পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনো যারা নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন, মোরেলগঞ্জের ছোট জামুয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৩৮), উত্তর ফুলহাতা গ্রামের হাসিব (৮), ছোটপড়ি গ্রামের নাসিমা আকতার (১৮), বদনিভাঙ্গা গ্রামের বশির (২২), ভাইজোড়া গ্রামের খাদিজা (৪০), রাহাত (১০), মোশার্রফ হাওলাদার (৫০), মুন্নী আক্তার (৩০) ও লাবনী আক্তার (৭) সহ ১০ জন।
এদিকে নিখোঁজদের খোঁজে নদী তীরে ভিড় করে রয়েছেন অনেক স্বজন। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনীর পাশাপাশি নিকটজনের মরদেহ খুঁজে পেতে ট্রলার নিয়ে নদীতে ছুটে চলছেন অনেকই। নদীতে স্বজনের মরদেহ খুঁজে পেতে চলছে প্রাণান্তর চেষ্টা। আবার অনেকেই নদীর তীরে বসে আছে কখন মরদেহ নিয়ে আসবে উদ্ধারকর্মীরা সেই অপেক্ষায়। মরদেহ এলেই স্বজনেরা ছুটে যাচ্ছে তার কাছে।
এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মো. ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সর্বমোট ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মরদেহের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারা সম্ভাব্য যে সকল স্থানে মরদেহ ভেসে যেতে পারে সেই স্থানগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোলেড়গঞ্জের পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রলার শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়।
শওকত আলী বাবু/এফএ/পিআর