ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশের ভুলে ১০ দিন জেলে চা বিক্রেতা

প্রকাশিত: ০৪:৫৭ এএম, ০২ এপ্রিল ২০১৭

পুলিশের সামান্য ভুলের কারণে ১০ দিন ধরে বিনা অপরাধে জেল খাটছেন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরখালী ফেরিঘাটের চা বিক্রেতা মো. কাওছার উকিল (৪২)। পুলিশ কোনো প্রকার যাচাই বাছাই না করেই কেবল নামের মিল থাকায় কাওছার উকিলকে ২৩ মার্চ গ্রেফতার করে।

পরে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দোকান থেকে কাওছারকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের ভাষ্য ছিল, ‘আপনার বিরুদ্ধে খুলনার আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা এসেছে’। এসময় কাওছার গ্রেফতার এড়াতে পুলিশকে অনেক অনুনয় বিনয় করলেও কোনো কাজ হয়নি।

গ্রেফতার কাওসার উকিল উপজেলার ২ নম্বর নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেম উকিলের ছেলে। যে মামলায় চা বিক্রেতা কাওছারকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটির বাদী খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার নবীনগর গজালমারী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে শীমু আক্তার।

জানা গেছে, শীমু আক্তার ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে তার স্বামী মিঠু উকিল, শ্বশুর কাওছার উকিল, শাশুড়ি খুকী বেগম ও ননদ রাজিয়া বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৬৭/১৬। আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা (বাড়ি) ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরখালী গ্রামে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, শীমু আক্তারের সঙ্গে ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মিঠু উকিলের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বিমত হলে এ মামলাটি করেন শীমু আক্তার।

তিনি বলেন, আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত বাদীর শ্বশুর চরখালী গ্রামের বাসিন্দা কাওছার উকিলের বিরুদ্ধে ভাণ্ডারিয়া থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানোর নির্দেশ দেন। আর এতেই পুলিশ কোনো প্রকার যাচাই বাছাই না করেই নামের মিল থাকায় হেতালিয়া গ্রামের কাওছার উকিলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।

আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, আমি বিনা অপরাধে জেল হাজতে থাকা কাওছার উকিলের জামিনের জন্য ২৯ ও ৩০ মার্চ দুই দিন আদালতে আবেদন করেছিলাম। তবে আদালতের কর্যক্রম না চলায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ রোববার আবার জামিনের আবেদন করবো।

এ ব্যাপারে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হোসেন জানান, গ্রেফতারের সময় সে তার নাম ঠিকমত বলতে পারেনি। বিষয়টি আমরা যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নামের মিল থাকায় আরেকজনকে গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে জেল খাটানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের এসআই সুজন চক্রবর্তী বলেন আমার ভুল হয়েছে।

হাসান মামুন/এফএ/পিআর

আরও পড়ুন