ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৭

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রদেয় ২০ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার পৃথক অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলও শাখার সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার ও অ্যাডভোকেট নুর মোহাম্মদ সিকদারকে গ্রেফতা করা হয়।  এছাড়াও দুদকের আরেকটি টিম একই মামলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলামকেও গ্রেফতার করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ভুয়া মালিকানা তৈরি করে ক্ষতিপূরণের ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে আটক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। মামলার তদন্তে এটি প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং এ মামলায় সোমবার কক্সবাজারে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দুদকের চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক অজয় কুমার সাহার নেতৃত্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় দুদক চট্টগ্রাম-২ এর (এসি) গোলাম মোস্তফা ও ওসমান গণিও উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে দুদকের আরেকটি টিম একই মামলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলামকেও গ্রেফতার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম-২ এর উপ-পরিচালক ছৈয়দ আহমদ বলেন, মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ২৩৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। এর মাঝে ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়ি ঘের দেখিয়ে ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নিজেদের করায়ত্বে নেয় কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদারের নেতৃত্বে ৩৬ জনের একটি সিন্ডিকেট।

এ থেকে কৌশলে তারা ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা উত্তোলনও করে ফেলে। বাকি টাকার জন্য ইস্যু করা হয়েছিল আরও পাঁচটি চেক। এরই মধ্যে নালিশ আসলে পাঁচটি চেকের আওতায় নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের বাকি টাকা আটকে দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি প্রমাণ হলে নিজেরা বাঁচতে তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মাহবুবুর রহমান ক্ষতিপূরণ তুলে নেয়া ঘের মালিক দাবিদারদের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আদায়ে ২০ টি মামলা দায়ের করে। এটি তদন্ত করতে গিয়ে ২০টি মামলাকে একটি মামলায় একিভূত করা হয় (নম্বর-১৯, ৭/১২/২০১৪)।

matarbari

পূর্ণ তদন্তে উল্লেখিত ২৫ চিংড়ি ঘেরের কোন অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। তাই ঘেরের বিষয়টি প্রথম উপস্থাপণকারী হিসেবে আটক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদারকে মূল হোতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এসব কাগজ তৈরিতে জড়িত আইনজীবীসহ ৩৬ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়।

ছৈয়দ আহমদ বলেন, এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সোমবার কক্সবাজার থেকে দুইজন এবং চট্টগ্রাম থেকে আরও একজনকে আটক করেছে দুদক।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবুল কাশেম অভিযুক্ত হওয়ার পর পরই বহিষ্কৃত। অনৈতিকভাবে সরকারি টাকা আত্মসাৎ কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই অভিযুক্ত সবার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এদিকে, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের মাধ্যমে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কারাগারে  প্রেরণের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন অভিযান পারিচালনাকারী দুদক কর্মকর্তা অজয় কুমার সাহা।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/এমএস