ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চলনবিলের কুচিয়া মাছ যাচ্ছে বিদেশে

প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৭

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মৎস্য অধিদফতরের সহযোগিতায় কুচিয়া ও কাকঁড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে কুচিয়া মাছের চাষ। আর এই কুচিয়া দেশের চাহিদা পূরণ করে কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রফতানি হচ্ছে।

বিশেষ করে চলনবিল অধ্যুষিত এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, গুরুদাশপুর, সিংড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর অঞ্চলে কুচিয়া চাষ শুরু হয়েছে।

কুচিয়া দেখতে দেখতে অনেকটাই সাপের মতো। এর রয়েছে বিভিন্ন নাম কুঁচে, কুঁচে মাছ, কুচিয়া, কুইচ্চা বা কুচে বাইম। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ। বিশেষ করে কুচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন।

Shirajganj

কুচিয়া সাধারণত কাদামাটিতে থাকে। কাদা খুঁড়ে খুঁড়ে এগুলো সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় চলনবিল তথা তাড়াশ উপজেলায় পাকা ড্রাম পদ্ধতিতে কুচিয়া প্রজনন ও চাষ শুরু হয়েছে। চলনবিল এলাকায় চাষ হওয়া এই মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলা গত বছর থেকে সরকারি সহায়তায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে বাণিজ্যকভাবে কুচিয়া চাষ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মাধাইনগর, বারুহাস ও দেশীগ্রাম ইউনিয়নে একটি কমিটি তৈরি করে তাদের যাবতীয় উপকরণ সামগ্রী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কুচিয়া চাষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত হয়ে কুচিয়া মাছ চাষ শুরু করেছেন। তারা প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট কুচিয়া সংগ্রহ করে তা এক বছরের প্রজেক্টে বড় করে বিক্রি করছেন।

Shirajganj

তাড়াশের বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল কোচিয়া চাষ প্রকল্পের সভাপতি তপন কুমার উরাও জাগো নিউজকে জানান, কুচিয়া চাষের জন্য উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের সহযোগিতায় যাবতীয় উপকরণসহ প্রতিটা প্রজেক্টে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এক বছর পর খরচ বাদ দিয়ে তাদের লক্ষাধিক টাকার উপরে লাভ হচ্ছে। এটা লাভজনক ব্যবসা বলে তিনি জানিয়েছেন।

কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন কুচিয়ার খামার। কুচিয়া রাখার জন্য একটি ট্যাঙ্কি পাকা করে এর মধ্যে পানি রেখে চাষ করা হয়। কুচিয়াকে খাবার হিসেবে কেঁচো, ছোট ছোট মাছ, শুঁটকির গুঁড়া এবং মাছের খাবার দেয়া হয়।

Shirajganj

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত খামারে প্রায় ২ মণ কুচিয়া রয়েছে। এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন খাল-বিলে যারা কুচিয়া ধরে তাদের কাছ থেকে বাচ্চা কুচিয়া ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনে এনে খামারে রেখে বড় করা হয়। তারপর ৬০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। একটি কুচিয়া প্রায় ১ কেজির চেয়ে বেশি ওজনের হয়। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি এই কুচিয়া খামারটিকে বড় করতে পারছেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে কুচিয়া চাষ প্রদর্শনী ও প্রকল্প গ্রহণ করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গত বছর থেকে বাণিজ্যকহারে সরকার ও মৎস্য অধিদফতরের পৃষ্ঠপোষকতায় কুচিয়া চাষ ও কুচিয়া প্রজনন শুরু হয়েছে। এতে করে কুচিয়া চাষের সঙ্গে জড়িতদের লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় তারা কুচিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে কুচিয়া কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

এমএএস/পিআর