ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কক্সবাজারে সেচ প্রকল্পে সুবিধা পাবে অর্ধ-লাখ কৃষক

প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৭

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষির উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে শতভাগ ফসল ফলাতে করণীয় নির্ধারণ করে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে ২০টি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (প্রকৌশল) জেলার ৪ উপজেলায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শেষ হলে জেলার অর্ধ-লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি লাভবান হবেন, এমনটি প্রত্যাশা কৃষি সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কক্সবাজার জেলা শাখার সহকারী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থ-বছরে কৃষিতে উন্নয়নের জন্য জেলার ৪ উপজেলায় ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তবে ২০ প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেও আগামী এক বছরের মধ্যে কৃষিতে কক্সবাজারে উৎপাদনে দেশের অন্য সব জেলাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে জোর দিয়ে বলেছেন।

বিএডিসির এ কর্মকর্তা জানান, ২০টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি প্রকল্প শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তিনটি প্রকল্পের কাজ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং পাঁচটি প্রকল্প শুরু পথে রয়েছে। উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেয়া প্রকল্পগুলো হলো চকরিয়ার বরইতলী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নে দুইটি সেচ স্কিমে পানি সরবরাহের জন্য ‘বারিড পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্প’ যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বরইতলীতে হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প যা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

রামুতে রবাদ্দ দেয়া ৯টি প্রকল্পের মধ্যে ছয়টির কাজ শেষ পর্যায়ে। তিনটি প্রকল্প শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম। শেষ হওয়া ছয়টি প্রকল্প হলো গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, চাকমারকুল ইউনিয়নে সেচ স্কিমে বারিড পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্প।

তবে এ প্রকল্পটি দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনয়নে এ মাসের শুরুতে আরম্ভ হয়েছে। এছাড়া ফতেখারকুলে একটি, জোয়ারিয়ানালায় দুইটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ শেষ হয়েছে।

রামুর কচ্ছপিয়ার শুকবনিয়া ও মধ্যম জামছড়িতে দুইটি খালের ভরাট দূর করতে ২ কিলোমিটার করে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানান বিএডিসির কর্মকর্তারা।

এদিকে, সদর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ১১টির মধ্যে ৯টির কাজ শেষ পযার্য়ে রয়েছে। দুইটি প্রকল্প শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। প্রকল্পের মধ্যে ছোট-বড় কালভার্ট নির্মাণ ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ। এর মধ্যে ঈদগাঁও ভাদিতলায় স্লুইচ গেট নির্মাণ, পিএমখালীর ছনখোলা এবং চৌফলদন্ডির বড়গুদা খালের উপর বক্সকালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া চৌফলদন্ডিতে দুইটি, পিএমখালীর গোলার পাড়ায় ছোট কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ পযার্য়ে রয়েছে।

অপরদিকে স্কিমে কৃষকদের পানি সেচের জন্য ‘বারিড পাইপ নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় ঈদগাঁওতে দুইটি এবং পিএমখালীতে একটির কাজ শেষ পর্যায়ে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া ঈদগাঁও জাকিয়াকাটায় দেড় কিলোমিটার খাল খনন শেষ ও পিএমখালীর ফুটখালী খালের পুনঃখননের জন্য দেড় কিলোমিটারের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে।

উখিয়ার রাজাপালং আমতলিয়া ঘাট স্কিমে বারিড পাইপ নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কৃষকদের জন্য প্রকল্পটির গুরুত্ব বিষয়ে জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শেষ হলে কক্সবাজারে খাদ্য উৎপাদনে দেশের জন্য রোল মডেল হবে পাশাপাশি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে দেশের জাতীয় উৎপাদনে অবদান রাখবে।

চলমান প্রকল্পের কাজগুলো নিয়মানুসারে এবং কাজের গুণগতমান বজায় রেখে যথাসময়ে যেন শেষ করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে তদারক কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নে বিশাল সফলতার পর এবার কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আর্জনে সকল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষিবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটি নিয়মানুসারে সমাপ্ত করতে যথাযথ তদারকির নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এমএস