ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ডিমলায় বন বিভাগের বাঁশ কাটার মহোৎসব

প্রকাশিত: ০৩:৩৭ এএম, ১০ এপ্রিল ২০১৭

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সুন্দরখাতা বন বিভাগের বাঁশ বাগান থেকে দিনে দুপুরে বাঁশ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরাই এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে সুন্দর খাতা বন বিভাগের সুন্দরখাতা মৌজার ২০২১ দাগে ২২ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশ, বেত ও ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান। এসব বাগান ও বন বিভাগের সম্পদ তদারকির জন্য সুন্দর খাতা বনবিভাগে ১ জন বিট কর্মকর্তা, ১ জন মালী ও ১ জন রেস্ট হাউজ এটেনডেন্স রয়েছেন। যারা প্রতি মাসে সরকারি ভেতনসহ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে আসছে।

স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজসে তারা দীর্ঘদিন থেকে বনের বাঁশ ও গাছ চুরি করে কেটে তা কালোবাজারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়া বন কর্মচারীদের ইন্ধনে বনের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে চাষাবাদ করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।

গত ২ এপ্রিল দুপুরে বন বিভাগের মালী আব্দুল আলিম ও রেস্টহাউজ এটেনডেন্স নাজমুল হক বাঁশ বাগানের প্রায় অর্ধতাধিক বাঁশ কেটে এক বাঁশ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। ওই ব্যবসায়ী বনের চোরাই বাঁশ ভ্যানে তুলে পাচারের সময় স্থানীয়রা আটক করলে পরে সাবেক ইউপি সদস্য রহুল আমিন সাবলু এসে ছেড়ে দেন।

বন কর্মচারী আব্দুল আলিম ও নাজমুল হক জানান, বিট অফিসে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নেয়ার জন্য বাঁশ কাটা হয়েছে। এ বাঁশ কাটার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন না বলেও তারা জানান।

pic

সুন্দরখাতা বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আমি সাতজান বিট অফিসে আছি। ওখানে কে কী করলো তা আমার জানা নেই। তবে বাঁশ কাটার খবর শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর আগে বনের জমিতে বাঁশ, বেত ও ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান গড়ে তোলা হয়। বাগানটি অনেক ভালো হয়েছিল কিন্তু রাতের আধারে বনের বাঁশ ও গাছ কেটে সাবাড় করা হলেও বন কর্মচারীরা বরাবরই নীরব থেকেছেন।

তারা আরো জানান, বন কর্মচারীদের মদদেই বনের জমিতে অবৈধভাবে চাষাবাদ করছে ওই বন এলাকার রুহুল আমিন সাবলু নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন এলাকার সচেতন মানুষ।

বালাপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন সাবলু জাগো নিউজকে বলেন, তারা ছোট চাকরি করেন। বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট করলে তাদের ক্ষতি হতে পারে।

সুন্দরখাতা বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডোমার ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল হাই জানান, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রান্তোষ চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ কোনো অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাহেদুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম