ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৪৫ বছর পর ‘পাঞ্জাবি টিলা’র নাম হচ্ছে ‘বাংলা টিলা’

প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৭

দীর্ঘ লড়াই শেষে দেশ স্বাধীন হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ধরাশায়ী হয়ে পাক বাহিনী পালিয়ে গেল। কিন্তু তাদের অত্যাচারের স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় খাগড়াছড়ির একসময়ের গভীর অরণ্য ‘পাঞ্জাবি টিলা’।

পাকবাহিনীর নির্মমতা ভুলতে না পারেলও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে সেই পাঞ্জাবিদের নাম। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর শেষে পাঞ্জাবি টিলার নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা টিলা’ নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলার মাটিরাঙা উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক বাহিনী ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার বেলছড়ি ইউনিয়নের এক গভীর অরণ্যে।

সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে তারা তাদের কার্যক্রম চালাতো। সেখানেই আশেপাশের থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী সাধারণ মানুষদের ধরে এনে তাদের ওপর চালানো হতো অবর্ণনীয় অত্যাচার।

মা-বোনদেরও রেহাই দেয়নি হায়েনারা। স্বাধীনতার পর সেখানে গড়ে উঠে জন-বসতি। একসময় পাক বাহিনীর বর্বরতার চিহ্ন বয়ে বেড়ানো সে গভীর অরণ্য পরিচিতি লাভ করে পাঞ্জাবি টিলা হিসেবে।

একটি স্বাধীন দেশের জনগণের মুখে বর্বর পাঞ্জাবিদের নাম উচ্চারিত হবে, জন্মসনদ থেকে শুরু করে সব কাগজপত্রে তাদের নাম লিখতে হবে এমনকি পাঞ্জাবিদের নামেই সরকারি অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে তা হতে পারে না। তাই ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের দিনেই বদলে যাবে পাঞ্জাবি টিলার নাম।

এই প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে এমনটাই জানিয়েছেন মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি. এম মশিউর রহমান । তিনি বলেন, পাঞ্জাবি নামটা আমাদের দেশের সঙ্গে যায় না। স্বাধীনতার এতোদিন পরেও এ ধরনের নাম থাকাটা সমীচীন নয়।

বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম পাঞ্জাবি টিলার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের সঙ্গে ঐক্যমত প্রকাশ করে বলেন, এ নামটির সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, দেরিতে হলেও স্থানীয় জনগণ পাঞ্জাবি টিলা নামটি পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাঞ্জাবিদের ক্যাম্প থাকার কারণেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এলাকাটি পাঞ্জাবি টিলা হিসেবে পরিচিতি পায় উল্লেখ করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পাঞ্জাবি টিলার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তবে আরও অনেক আগেই এই নাম পরিবর্তন হওয়া দরকার ছিল।

পাঞ্জাবি টিলার নাম পরিবর্তন করে বাংলা টিলা নামকরণের ‘ফলক’ উন্মোচিত হবে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসে। এ জন্য বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

এ জন্য সেখানে আয়োজন করা হয়েছে সুধী সমাবেশে। অনুষ্ঠানে মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান প্রধান অতিথি এবং মাটিরাঙা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক ও মাটিরাঙা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মনছুর আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/জেআইএম