ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাইপ্রাস যাওয়া হলো না শোভারাণীর

প্রকাশিত: ০২:৩৯ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

বন্যপ্রাণী বিনিময় চুক্তি মতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসের পাফোস বার্ড অ্যান্ড এ্যানিমেল পার্কে যাওয়ার কথা ছিল শোভারাণীর। কিন্তু, সাইপ্রাস যাওয়ার আগেই গত রোববার ভোর রাতে পরপারে পাড়ি জমালো শোভারাণী।

গত শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন শেডে বাচ্চা হাতি ‘শোভারাণী’ মারা যায়।

শোভারাণী মারা যাওয়ার খবরে সরকারের চার মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। বাচ্চা হাতিটি কি কারণে মারা গেছে তা নির্ণয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে, ওই কমিটিতে কারা রয়েছেন তা জানা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী বিনিময় চুক্তির আলোকে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসের পাফোস বার্ড অ্যান্ড এ্যানিমেল পার্কে বাংলাদেশ থেকে দুটি মাদি বাচ্চা হাতি প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তি হয়। এর আলোকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ঢাকার বন সংরক্ষকের নির্দেশনা মোতাবেক পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বাঘাইহাটের বিএফআইডিসি’র (বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন) কাঠ আহরণ ইউনিট হতে ‘বনরাণী’ ও ‘শোভারাণী’ নামে দুটি বাচ্চা হাতি গত ৬ মার্চ ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠান বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রকিবুল হাসান মুকুল।

এরপর থেকে পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন শেডে হাতি দুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছিল।

সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারী সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাইপ্রাস পাঠানোর লক্ষে বাচ্চা হাতি দুটি অস্থায়ী ভিত্তিতে পার্কে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু, এখানে আনার পর ‘শোভারাণী’ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৭ মার্চ চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তিন চিকিৎসক বলেছিলেন, বাচ্চা হাতিটি অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক ‘শোভারাণী’র চিকিৎসা এবং সশ্রুষা চলছিল। সে খাবারও খাচ্ছিল নিয়মিত । কিন্তু, গত শনিবার দুপুর থেকে হাতিটি নাওয়া-খাওয়া অনেকটা ছেড়ে দেয়। ওইদিন রাত একটার দিকে হাতিটি মারা যায়।

খাগড়াছড়ির বিএফআইডিসি থেকে বাচ্চা হাতি দুটি যখন সাফারি পার্কে প্রেরণ করা হয় তখন দুইজন প্রশিক্ষিত মাহুতও সঙ্গে আসেন। ইউরোপের সাইপ্রাসে হাতি দুটির সঙ্গে তাদেরও (মাহুত) যাওয়ার কথা ছিল। এদের একজন হলেন বীরসেন চাকমা।

বীরসেন চাকমা রোববার দুপুরে বলেন, বাচ্চা হাতি দুটির সঙ্গে আমিই বেশিরভাগ সময় কাটাই। আমার মনে হয়েছে, স্থান বদল এবং খাগড়াছড়ির পরিবেশের সঙ্গে এখানকার পরিবেশ খাপ খায়নি। তাছাড়া এখানে আনার পর থেকে খাবার গ্রহণে অনাগ্রহ থাকায় ধীরে ধীরে ‘শোভারাণী’ অসুস্থ হয়ে পড়লেও তার যথাযথ চিকিৎসাও চলছিল। কিন্তু, শনিবার রাত একটার দিকে ‘শোভারাণী’ হঠাৎ মারা যায়।’

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাইপ্রাস প্রেরণের জন্য সাফারি পার্কে অস্থায়ী ভিত্তিতে রাখা বাচ্চা হাতি দুটির একটি ‘শোভারাণী’ মারা যাওয়ার খবরে বন ও পরিবেশ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তটিমও গঠন করা হয়েছে। তবে এই কমিটিতে কত সদস্য এবং কারা রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী আগামী ১৫ মে বাচ্চা হাতি দুটিকে ইউরোপের সাইপ্রাস প্রেরণের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

পার্ক সূত্র জানায়, বাচ্চা হাতি ‘শোভারাণী’ অসুস্থ হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আসা তিনজন পশু বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা মোতাবেক দৈনিক দেড়শ কেজি কলাগাছ, এক কেজি চাল, এক কেজি আটা, ৫০ কেজি ঘাঁস, ৩ কেজি ভূষি, ৫শ গ্রাম গুড়, ২শ গ্রাম লবণ খাওয়ানো হয়। মারা যাওয়া হাতিটির বয়স অনুমান ৫ বছর, ওজন ৫শ কেজি এবং উচ্চতায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।

সাফারি পার্কের তত্বাবধায়ক (রেঞ্জার) মো. নুরুল হুদা জানান, মারা যাওয়া হাতির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল হক, চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবদুর রহমান ও পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে একটি প্যানেল করা হয়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রকিবুল হাসান মুকুল বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে কি কারণে শোভারাণী মারাগেছে।

নির্দিষ্ট সময়ে দুটি বাচ্চা হাতি সাইপ্রাস প্রেরণ করা যাবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএফও মুকুল বলেন, হয়তো খাগড়াছড়ির বিএফআইডিসিতে আরো বাচ্চা হাতি থাকতে পারে। সেখান থেকে সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া বিষয়টি উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাই এখনই এই বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

এমএএস/আরআইপি