ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঐতিহাসিক চড়ক পূজায় নারী-পুরুষের ঢল

প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৭

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঐতিহাসিক চড়ক পূজায় হাজারও মানুষের ঢল নেমেছে। জেলার মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বকুলতলায় রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ পূজা দেখতে আশপাশের জেলা থেকে মানুষ আসছে।

সন্ন্যাসী ভীম হালদার জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উৎসব আয়োজনে এই পূজা করেন। প্রতি বছর এই পূজার মূল আকর্ষণ ৬-৭ জন সন্ন্যাসীর পিঠে বড়শিবিদ্ধ হয়ে শূন্যে ঘোরা। প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসছে এ চড়ক পূজা।

স্থানীয়রা জানায়, এ চড়ক মেলার মূল আকর্ষণ বড়শিবিদ্ধ হয়ে শূন্যে ঘোরানো (স্থানীয় ভাষায় বলা হয় বান ফোঁড়ানো)। আগে শুধুমাত্র পিঠে বান ফুঁড়িয়েই ঝুলিয়ে দেয়া হতো চড়ক গাছে। আর সে অবস্থাতেই ঘোরানো হতো। প্রায় ১০৫ বছর পূর্বে এক সন্ন্যাসীর পিঠের চামড়া ছিঁড়ে পড়ে আহত হওয়ার কারণে বড়শির ওপর এখন গামছা পেঁচিয়ে দেয়া হয়।

পূজা ও মেলা কমিটির সভাপতি সুনিল ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক সুবোল কর্মকার বলেন, চড়ক পূজা মূলত শিব পূজারই অংশ বিশেষ। নানা আনুষ্ঠানিক তায় তা সম্পন্ন করা হয়।

COROK

৬ সন্ন্যাসী বৈচিতলা গ্রামের ভিম কুমার হালদার, জলিলপুর গ্রামের আনন্দ শর্মা, ফতেপুর গ্রামের মনা কর্মকার, বিল্পক কুমার, কৃশচন্দ্রপুর গ্রামের সাধন কুমার, বাসুদেব কুমার ও প্রবীণ কুমার ফতেপুর বাওড়ে স্নান করেন।

এরপর ৬ সন্ন্যাসী মাটির কলসে জল (পানি) ভরে মাথায় নিয়ে আসেন মেলা প্রাঙ্গণে তাদের চড়ক গাছের গোড়ায়। ঠিক ৫টা ২০ মিনিটে প্রথমে ভীম হালদারের পিঠে দুটি বড়শি বিদ্ধ করা হয়।

এ সময় স্মরণ করা হয় মহাদেব শিব ঠাকুরকে। এরপর ভীমকে ১০-১৫ জন পুরুষ ধরাধরি করে ঝুলিয়ে দেন চড়ক গাছে। অপর গাছের অপর প্রান্তে থাকা কপিকলের বাঁশ জোরে জোরে ঘোরাতে থাকেন ২০-৩০ জন যুবক।

চড়ক গাছে ঝুলিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মহিলা তাদের এক দেড় বছরের শিশু সন্তানকে তুলে দেন সন্ন্যাসীদের কোলে। তাকে নিয়ে শূন্যে ঘুরতে থাকেন সন্ন্যাসীরা। এই অবস্থায় ছিটিয়ে দেয়া হয় বাতাসা। এভাবেই বড়শিতে বিঁধে ৪-৫ পাক শূন্যে ঘুরে নেমে আসেন ভীম হালদার।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/পিআর