সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ শিকারের মহোৎসব
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে ব্যবস্থাপনাগত শিথিলতার কারণে অভয়ারণ্যের নদী ও খালে মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও এখন চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব। বাগেরহাটের পূর্ব অভয়ারণ্যের কচিখালী ও কটকা এলাকায় পাথরঘাটা ও শরণখোলা উপজেলার জেলেরা শিকার নিষিদ্ধ নদী ও খালে বেআইনিভাবে মাছ ধরছে।
সুন্দরবন বিভাগের স্থানীয় অফিস, গোলকূপ ও টহলফাঁড়িগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎকোচ দিয়ে এই অপরাধ কর্ম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের অধীন কচিখালী, ডিমেরচর, পক্ষীদিয়ারচর, সুখপাড়ারচর, কটকার বাদামতলা, কাদেরের খাল প্রভৃতি অভয়ারণ্যভুক্ত এলাকায় বর্তমানে কোরাল মাছ ধরার জাল, চরগড়া ও ঘোপজাল দিয়ে মাছ শিকার চলছে।
অভয়ারণ্যভুক্ত হওয়ায় এখানে মাছসহ সকল প্রকার আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর এলাকার ইউপি সদস্য জাকির দর্জি কটকা, পাথরঘাটার টেংরা এলাকার শহীদ ও এনামুল, পদ্মা স্লুইজ গেট এলাকার হালিম খান ও সিদ্দিক এ মৌসুমে চরভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিয়ে এ অবৈধ কাজ চালাচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূএ থেকে জানা গেছে।
এ উৎকোচের টাকা কচিখালী ও কটকা বন অফিসের কর্মকর্তারা ছাড়াও শরণখোলা রেঞ্জ সদর দফতর ও বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের সদর দফতরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব অভয়ারণ্যের মধ্যে প্রায় সময় মাছ শিকার করা হলেও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কোরাল মাছ ধরার মৌসুমেই এই প্রবণতা শুরু হয়।
কটকা অভয়ারণ্যে এলাকায় বেআইনিভাবে মাছধরারত জেলেদের মহাজন শরণখোলার জাকির দর্জি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তিনি বৈধভাবে সেখানে ব্যবসা করেন।
জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, জাকির দর্জি প্রকৃত মৎস্য ব্যবসায়ী নন। অতীতে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু দল জুলফিকার বাহিনী ও বিডিআর বাহিনীর মুক্তিপণ আদায় ও টোকেন প্রদানের এজেন্ট হিসেবে লোকালয়ে কাজ করতেন। এ বাহিনী দু’টি র্যাব ও পুলিশের কঠোর অভিযানে বিলুপ্ত হওয়ায় জাকির দর্জি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে বর্তমানে সুন্দরবনের মৎস্য ব্যবসার অন্যতম বিনিয়োগকারী।
তিনি বন বিভাগসহ প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করে এ বন ও সাগরে মহাজন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, যে এলাকা নিয়ে অভিযোগ তা বঙ্গোপসাগরের তীরে হওয়ায় রেঞ্জ অফিস থেকে তদারক করা সম্ভব হয় না। তবে ওইসব এলাকার বন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি ভাল বলতে পারবেন।
কটকা টহলফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মোবাইল ফোনে জানান, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ। কটকা এলাকায় বর্তমানে কোনো জেলে নেই। কচিখালী এলাকায় আছে কিনা তা তিনি জানেন না। অভয়ারণ্যের বাইরে দুধমুখী, শ্যালারচর, বন্ধুখালী, ছাপড়াখালী এলাকায় একইভাবে মাছ ধরার ঘটনার কথা জানা গেলেও এ বন কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেন।
খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনে যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত পাহারা ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ বলবৎ ছিল তা এখন বন্ধ। আগামী মে মাসে স্মার্ট পেট্রোলিং ব্যবস্থা আবার চালু হবে তখন সুন্দরবনের অপরাধ মাত্রা কমে আসবে।
শওকত আলী বাবু/এফএ/আরআইপি