ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভূমি নিয়ে দ্বন্দ্ব বন্ধ করবে ভূমিকার্ড

প্রকাশিত: ০৪:৫৫ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৭

ভূমি নিয়ে কেন সহিংসতা হয় তা গবেষণা করে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরের মাস্টারপাড়া এলাকার সেলিম মিয়া (৫১)। তার দাবি ভূমি মালিকদের মধ্যে ভূমিকার্ড থাকলে ও ভূমি নিয়ে বিষয়ভিত্তিক কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করলে দেশে ভূমি নিয়ে আর বিরোধ থাকবে না।

দেশে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে গত প্রায় চার বছরে ৭১৯ জন খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। দৈনিক পত্রিকা পড়ে এ হিসাব সংগ্রহ ও সেইসব পত্রিকার কাটিং সংরক্ষণ করেছেন তিনি।

সেলিম মিয়ার জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাতালশকল গ্রামে। নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে ১৯৯৯ সাল থেকে সুন্দরগঞ্জে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। সেখানে একটি এনজিওতে চাকরি নেন। সামান্য বেতনে সংসার চলে না। তাই এনজিওর চাকরি ছেড়ে দেন। বেছে নেন মামলার এজাহার লেখার কাজ। ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবধি এ কাজই করছেন তিনি।

এজাহার লিখতে গিয়ে দেখেন, মামলাগুলোর বেশিরভাগই ভূমি নিয়ে। একই ব্যক্তি একই জমি বারবার বিক্রি করছেন। কিন্তু তা ধরা পড়ছে না। ফলে ভূমির মালিকানা নিয়ে খুন ও সংঘর্ষের ঘটনা এবং তা মামলা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। বেশিরভাগ মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, বিরোধ সমাধান হয় না। তাই এসব জটিলতা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে থাকেন। শুরু করেন গবেষণা।

তার বাসার একটি কক্ষের নাম দেন গবেষণাগার। তিনি পত্রিকার একজন নিয়মিত পাঠক। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয়, সাপ্তাহিক, মাসিক ও দৈনিক পত্রিকা খুটেখুটে পাঠ করেন। খুঁজতে থাকেন সারাদেশে ভূমি নিয়ে বিরোধ সংক্রান্ত খবর। ভূমি নিয়ে বিরোধে হতাহতের যে খবর প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, প্রতিদিনই সেই খবর তারিখসহ কাটিং করেন। তা সেঁটে দেন দেয়ালে ও সংরক্ষণ করেন খাতায়।

এভাবে ২০১৩ সালের জুন থেকে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকার ৭১৩টি কাটিং সংরক্ষণ করেন। এতে ভূমি নিয়ে বিরোধে ৭১৯ জন খুন ও কয়েক সহস্রাধিক আহত হয়েছেন বলে দেখতে পান। এসব কাটিং থেকে হিসাব মিলিয়ে তারিখ অনুযায়ী তালিকা করেছেন তিনি।

উপজেলা সদরের মাস্টারপাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষক নেছার আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি তাকে এই কাজ করতে দেখছি। দেশের মানুষের জন্য ভাবাটা নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ।

সেলিম মিয়া বলেন, আমি নিজের জন্য এই কাজটি করছি না। করছি দেশের মানুষের কল্যাণে। সরকার বিষয়ভিত্তিক কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ও ভূমি মালিকদের মধ্যে ভূমিকার্ড বিতরণ ব্যবস্থা চালু করলেই ভূমি নিয়ে বিরোধ থাকবে না। মামলার সংখ্যাও কমবে। ভূমির জন্য কাউকে জীবন দিতে হবে না। দাবি বাস্তবায়িত হলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

সেলিম মিয়ার স্ত্রী নাজমিন নাহার বলেন, তিনি প্রথমে যখন কাজটা শুরু করেন, তখন মনে হচ্ছিল পাগলামি। পরে যখন এর ব্যাখা দেন তখন মনে হয়, তার দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে। তখন তাকে সহায়তা করি, কাজে অনুপ্রেরণা যোগাই।

বড় ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, লেখাপড়ার ফাঁকে বাবার কাজে উৎসাহ দিই। বাবার স্বপ্ন পূরোণ হোক এটাই চাই।

এফএ/আরআইপি