ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফুলছড়িতে বালু দিয়ে তৈরি হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

প্রকাশিত: ১১:৫৩ এএম, ২০ এপ্রিল ২০১৭

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশে মাটির বদলে বালু দিয়ে নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন শ্রমজীবী মানুষরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অপরদিকে পানির চাপে বাঁধটি আবারও ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে বন্যার পানির চাপে ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৮০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। চলতি বছরের গত ১০ এপ্রিল ভেঙে যাওয়া অংশ সংস্কার কাজ শুরু হয়। আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা। এই কাজে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৮ টাকা। কাজের দায়িত্ব পান ফেনী জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং। ব্রক্ষপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাঁধ সংস্কার কাজে শতকরা ৩০ ভাগ কাদামাটি, শতকরা ৪০ ভাগ পলি এবং শতকরা ৩০ ভাগ বালু দিয়ে ভেঙে যাওয়া অংশ ভরাট করার কথা। শুধু তাই নয়, ভরাট করতে হবে শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে। এ ছাড়া বাঁধটি মজবুত করতে ভেঙে যাওয়া অংশ ভরাট করার পর দুইপাশেই স্যান্ড সিমেন্টের বস্তা দিতে হবে। কিন্তু, গতকাল বুধবার দুপুরে সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো শ্রমিক নেই। দুইটি স্কাভেটর মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু কাটা হচ্ছে। সেই বালু একটি চেইনড্রোজার মেশিন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ফেলা হচ্ছে।

সিংড়িয়া বাজার এলাকার পলাশ চন্দ্র সরকার বললেন, গত বছর বন্যার সময় বাঁধটিতে গর্ত দেখা দেয়। বিষয়টি পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। ফলে গত বছরের আগস্ট মাসে বাঁধটি ভেঙে ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এতে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবার সেই বাঁধ বালু দিয়ে নির্মাণ করা হলে তা টিকবে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি আবারও ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Gaibandha

একই গ্রামের দিনমজুর কাশেম মিয়া নিজের ভাষায় বললেন, শুনচি কামলা দিয়া মাটি কাটার কতা। গায়োত কাম হবার নাগচে, কিনতো হামারঘরোক কাউয়ো কামোত নেয় না। খ্যায়া না খ্যায়া দিন যাবার নাগচে।

ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ বলেন, বাঁধটি গত বছর প্রবল পানির চাপে ভেঙে যায়। এবার বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটা এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসবে না। শুধু সরকারের টাকা অপচয় হবে। শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও সেটাও করা হচ্ছেনা।

এসব বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. জুয়েল মিয়া মুঠোফোনে দাবি করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছেন, সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভরাট করতে দীর্ঘসময় লাগবে। তাই ঠিকাদারকে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

এমএএস/জেআইএম