গাজীপুরে স্ত্রীর উপর অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় স্বামী কারাগারে
গাজীপুরে স্ত্রীর গায়ে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনা স্বীকার করে রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী সুরুজ মিয়া।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬ বছর পূর্বে নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার রেজ্জাকপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে ভিকটিম নাছরিন বেগমের (২০) সঙ্গে গাইবান্ধা জেলার কেরামত আলীর ছেলে সুরুজ মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
বিয়ের পর স্বামী সুরুজ মিয়ার স্বভাব চরিত্র ভালো না হওয়া এবং তার উপর নির্যাতন ও সন্তানের কোনো খোঁজ খবর না নেয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে তারা দু’জন পৃথক বাসায় বসবাস করতে থাকেন। একমাত্র সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে নাছরিন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
এক পর্যায়ে শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে সুরুজ মিয়া তার স্ত্রী নাছরিনের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোগরখাল এলাকায় তার ভাড়া বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করতে থাকে। নাছরিন দরজা খোলা মাত্রই সুরুজ মিয়ার হাতে কাঁচের মগে থাকা অ্যাসিড নাছরিনের মুখমণ্ডলসহ শরীরে ছুঁড়ে মারে।
এতে নাসরিন গুরুত্বর আহত হন। তার চিৎকারে মাসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাছরিনকে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়।
এ ঘটনায় নাছরিন বাদী হয়ে তার বড় বোনের মাধ্যমে ৭ মে স্বামী সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ রোববার অভিযান চালিয়ে সুরুজ মিয়াকে গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকার মোল্লাপাড়া কাজিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
ওই দিনই সুরুজ মিয়াকে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা আক্তারের আদালতে হাজির করা হলে সেখানে সুরুজ মিয়া তার স্ত্রীর উপর অ্যাডিস নিক্ষেপের ঘটনা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত সুরুজ মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
আমিনুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি