ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কালীগঞ্জে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই

প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ১০ মে ২০১৭

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ এলাকায় পুলিশ সদস্য আজিজুর রহমান হত্যার চার বছর পূর্ণ হয়েছে আজ বুধবার। গত চার বছরেও এ হত্যা মামলায় তদন্তের কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। মামলার ৫৫ আসামির সকলেই জামিনে রয়েছেন। মামলার বাদী ও সাক্ষী পুলিশ হওয়ার পরও অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবার।

নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ মে গভীর রাতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ গ্রামে পূর্বাচল উপশহর এলাকায় বালি ভরাট ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে এলাকাবাসী। এতে আজিজুর রহমান নিহত হন এবং আরও চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেন। আর এতে নাগরী ইউনিয়নের তৎকালীন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদেরকে প্রধান করে মোট ৫৫ জনের নাম ও দেড় হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ আসামি ধরতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ গ্রামে অভিযান চালায়। এজাহার নামীয় আসামি নাগরী ইউনিয়নের তৎকালীন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে পুলিশ।

এ সময় আব্দুল কাদের তার লোকজন দিয়ে এলাকার মসজিদের মাইকে রাত ৩টার দিকে ঘোষণা দেয় কাদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে। মাইকে ঘোষণা শুনে বড়কাউ গ্রাম ও আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ দা, বল্লম, ছোরা, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ পোশাক পরিহিত পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুল কাদের নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

নিহত পুলিশ সদস্য আজিজুর রহমানের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম বলেন, আমার স্বামী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষী পুলিশ। অথচ ঘটনার চার বছরেও আমার স্বামী হত্যার বিচার পেলাম না। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই। তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলেও জানান তিনি।

নাগরী ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজ উদ্দিন জানান, এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশ হত্যার খবর পেয়ে পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সরকারি কাজে বাধা দেয়া এবং হত্যা করা দুইটাই অপরাধ। এর বিচার হওয়া দরকার।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর নথিতে আর কোনো তথ্য যোগ হয়নি।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, আমি তিন মাস আগে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। একজন আসামি মারা গেছেন, আরেকজন পলাতক এবং বাকীরা জামিনে আছেন। এজাহার নামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আলম চাঁদ জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, পুলিশ সদস্য হত্যা মামলাটি চার বছর আগের, আমি এখানে চার মাস আগে যোগদান করেছি। যোগদানের পর মামলাটি সুপার ভিশনের দায়িত্ব পাই। ওই মামলার আসামি অনেক। পূর্বের তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি ।

আব্দুর রহমান আরমান/আরএআর/জেআইএম