ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘুষ না দেয়ায় আদালতে ওসির মিথ্যা প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ০৩:৪৬ এএম, ১১ মে ২০১৭

৭০ হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগে বরগুনার তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনটি করেন তালতলী উপজেলার বড়ভাইজোড়া গ্রামের মৃত মো. আবুল কাশের হাওলাদারের ছেলে মো. জামাল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে মো. জামাল হোসেন বলেন, আমার বাবা মৃত আবুল কাশেম হাওলাদার ৭০ বছর আগে বড়ভাইজোড়া গ্রামে জমি ক্রয় করে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ওই ঘরেই আমাদের ছয় ভাই-বোনের জন্ম। বাবার মৃত্যুর পর একই উপজেলার ঝাড়াখালী গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আ. আজিজ ১৯৬৩ সালের একটি জাল দলিল করে আমাদের ভোগ-দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রয়োজনে আমরা আমাদের বসতবাড়ির (এসএ ৩৮০ নং খতিয়ানের ৯১৪৮ দাগের) গাছ কাটলে আ. আজিজ জাল দলিল দিয়ে আমিসহ আমার ২০ জন নিকটাত্মীয়ের নামে বরগুনার আমলীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার তদন্ত ভার দেয়া হয় তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ হালদারের কাছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আমরা এসএ ৩৮০ ও ৩৮১ নং খতিয়ানের ৯১৫৯ ও ১৪৪২ নং দাগের জমির গাছ ও মাটি কেটেছি।

অথচ এসব জমি আবাদি জমি এ জমিতে কখনও গাছ ছিল না এবং মাটিও কাটেননি জানিয়ে মো. হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত ভার পাওয়ার পরপরই ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

পরর্তীতে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের সময় আমাদের কাছে আরো ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার। এ ঘুষের টাকা দিতে আমারা অপারগতা প্রকাশ করলে ওসি মামলার বাদীর কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত না করেই আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এর প্রেক্ষিতে আদালত আমিসহ আমার ছয়জন নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। তিনি এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিকার দাবি করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আ. আজিজ বলেন, তার দলিলটি জাল নয়। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদারকে তিনি কোনো উৎকোচ দেননি জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি এই জমি ভোগ-দখল করে আসছি’।

তদন্তের সময় মামলার বিবাদীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, আমি মামলার বিবাদীদের কাছে কখনো কোনো টাকা চাইনি এবং টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তাদের সঙ্গে কখনো কোনো কথা হয়নি।

তিনি বলেন, তদন্তের সময় আমি যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি, সেগুলোই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে আদালতে দাখিল করেছি। মামলার বাদীর কাছ থেকেও কোনো ধরনের সুবিধা নেননি বলেও জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/আরআইপি