ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দিনাজপুরের মাঠে মাঠে ধান কাটার উৎসব

প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ১৩ মে ২০১৭

প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিন্তা নিয়ে দিনাজপুরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ছত্রাকজনিত নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দিনাজপুরে খুব একটা বেশি না পড়লেও ঝড়-বৃষ্টি আতঙ্কে রয়েছে কৃষক।

দিনাজপুরের মাঠে মাঠে এখন চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। আকাশের গুমটো ভাব যেন দূর হচ্ছে না। এতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় রয়েছেন এই অঞ্চলের চাষিরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আর উপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মাঠে মাঠে সোনালি ধানের দোলা দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন নতুন ধানের উৎসব বিরাজ করছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা।

কালবৈশাখী ঝড়ের আগেই কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসলকে ঘরে নিতে চান। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আকাশে গুমটো ভাব কৃষককে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। তারা শঙ্কায় আছেন কখন না জানি শিলা-বৃষ্টিতে তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে।

chirirbandar

চিরিরবন্দর সাতনালা ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া গ্রামের কৃষক শাহীনুর, নজরুল, মমিনুল, সুদান নশরতপুর ইউনিয়নের বেলাল, ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের ছমির, বাবলুসহ আরও অনেকে জানান, ছত্রাকজনিত নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব প্রথম দিকে দেখা দিলে আমরা খুব চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সঠিক সময়ে স্প্রে করে ব্লাস্ট সংক্রমণ থেকে ধানখেত অনেকটাই রোগ মুক্ত ছিল। তারা আরও বলেন, তবে এবার ধানের পুরো মৌসুমজুড়ে আবহাওয়ার এই লুকোচুরি খেলা আমাদের শঙ্কিত করে তুলছে।

একই উপজেলার তেতুঁলিয়া এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে এক বিঘা জমির ধানকাটা হয়েছে। কাটা ধান মাঠে শুকানোর জন্য বিছানো রয়েছে। কিন্তু এ বছর এমন বৈরী আবহাওয়ায় কখন ঝড়-বৃষ্টি ধেয়ে আসবে বলা মুশকিল।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের অধিকাংশ মাঠেই চলছে ধান কাটার উৎসব। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ধান কৃষকের ঘরে উঠবে। তাই ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষকের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

একই এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, আকাশে যে মেঘের অবস্থা বিরাজ করছে তাতে করে শিলা-বৃষ্টির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বোরো খেতে এবারে ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব প্রথমে আংশিক ভাবে দেখা দিয়েছিল। তবে কৃষি বিভাগের সকল উপ-সহকারীরা কৃষকের পাশে থেকে লিফলেট ও পরামর্শসহ সব রকমের সুবিধায় চিরিরবন্দরে এই রোগের তেমন প্রভাব পড়েনি। আশা করি উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার এমন বিরূপ প্রভাবে সামনে বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক বোরো আবাদে বেশ লাভবান হবেন।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম