ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শোভার ভালোবাসায় সিক্ত বুলবুলি

প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ১৫ মে ২০১৭

যেই পাখি কখনও মানুষের পোষ মানে না, আসে না মানুষের আশপাশে, সেই বুলবুলি পাখি বাসা বেঁধে বসত করে রাঙামাটি শহরের শোভা ত্রিপুরার ঘরে।

শুধু বাসা বেঁধে বসত করছে না, পাখিদের সঙ্গে পরিবারের সবার আত্মিক বন্ধন গড়ে উঠছে, তৈরি হয়েছে অদ্ভুত সম্পর্ক। এ যেন মানুষ ও বুনোপ্রাণির মধ্যকার ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত, যা দেখতে প্রতিদিন শোভা ত্রিপুরার ঘরে ভিড় জমছে উৎসুক জনতার।

রাঙামাটি শহরের তবলছড়ির মাঝেরবস্তি এলাকায় বসবাস করা শোভা ত্রিপুরার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ঘরে বসত করা বুলবুলিদের সঙ্গে তাদের যে কতটা ভাব। যেন মানুষ আর প্রকৃতি প্রাণির মধ্যে গভীর আত্মীয়তার বন্ধন।

শোভা ত্রিপুরা জানান, যেখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষের আনাগোনা, ঠিক সেখানে বাড়ির মূল দরজার পাশে লাগানো ছোট একটি পাতাবাহার গাছের ডাল। সেই ডালে মাসখানেক আগে বাসা বাঁধে দেশীয় পাখি বুলবুলি। অথচ বুলবুলি পাখি কখনও পোষ মানে না, মানুষের সংস্পর্শেও আসে না। সেই পাখি তাদের ঘরে আশ্রয় নেয়া বাসায় ডিমও দিয়েছে। ডিম থেকে জন্ম দিয়েছে ৩টি ছানা। এখন ছানাগুলো সেখানে লালন করছে।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে মানুষের আনাগোনায় পাখিরা একটু আধটু ভয় পেলেও আদর পেয়ে এখন আর ভয় পায় না। পাখিদের নিজের সংগ্রহ করা খাবারের পাশাপাশি আমরা তাদের খাবার ও পানি খেতে দেই। নির্ভয়ে আমাদের আদর-যত্ন নিচ্ছে পাখিরা। আমার তিন মেয়ে শান্তা, পুষ্প ও ফাল্গুনীর হাতেও নির্ভয়ে খাবার ও পানি খায় পাখিগুলো। ছানাগুলো যেন মানবশিশুর মতো ভালোবাসা, শাসন, আদর, সবই বোঝে। সচরাচর এমন মিল দেখা মেলে না।

এমন দৃষ্টান্ত উপভোগ করতে প্রতিদিন প্রতিবেশী ও উৎসুক লোকজন ভিড় করছেন শোভা ত্রিপুরার বাড়িতে।

শোভা ত্রিপুরা বলেন, আমার তিনটি যেমন কন্যাসন্তান, তেমনি আমার মতো বুলবুলিদের সংসারেও তিনটি ছানা। তাই আমি আমার সন্তানের মতো করেই তাদের দেখি। কেউ যেন তাদের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সবসময় লক্ষ্য রাখি।

তিনি মনে করেন, ভালোবাসা, আদর, মায়া মমতা পেলে পাখি কেন- হিংস্র জানোয়ারকেও পোষ মানানো সম্ভব। কেউ যেন পাখি শিকার এবং প্রাণিকুল ও প্রকৃতিকে ধ্বংস না করে তা সুষ্ঠু সংরক্ষণের পরামর্শও দেন এই পাখিপ্রেমী নারী।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এমএএস/এমএস