বছর শুরুর বৃষ্টিতে তিস্তা এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন
উত্তরবঙ্গের তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো ধান মূলত সেচ নির্ভর। মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর বোরো আবাদে পানি সঙ্কট হয়নি। তাই ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠে মাঠে ধান কাটা আর মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের।
এদিকে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘরে ধান, গোলায় ধান, আঙিনায় ধান, জমিতে ধান। এমন চিত্র নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকার প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে। এখন শুধু বোরো ধান আর ধান। সেচ প্রকল্পের দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পরিদর্শন সড়ক ছেয়ে গেছে ধান আর খড়ে।
ওই এলাকার কৃষকেরা অভাব-অনটনকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়ে আজ স্বাবলম্বী হয়েছে। এখন তিস্তা সেচ প্রকল্পের ১২টি থানা এলাকায় প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ আর নিকব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব এড়িয়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি কৃষি বিভাগের। এতে শুধুমাত্রা রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় চালের হিসাবে সম্ভাব্য উৎপাদন আশা করা হচ্ছে প্রায় ২০ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমি থেকে প্রায় ৬৫ ভাগ ধান কৃষক কাটাই মাড়াই শেষে ঘরে তুলেছে। বাকি ৩৫ ভাগ ধান আগামী ১২ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারবে এমন কথাই জানালেন কৃষকরা।
রংপুর কৃষি অঞ্চল অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার রংপুর কৃষি অঞ্চলে ৫ জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল পাঁচ লাখ ২ হাজার ২৮৪ হেক্টর জমিতে। কিন্তু অর্জিত হয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩৪৯ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৬৫ হেক্টর বেশি। এরমধ্যে নীলফামারীতে ৮২ হাজার ১১০ হেক্টরে, রংপুরে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০ হেক্টরে, গাইবান্ধায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬১২ হেক্টরে, কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১০ হাজার ৫০২ হেক্টরে ও লালমনিরহাটে ৫০ হাজার ৮৫০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

সম্প্রতি রংপুর কৃষি অঞ্চলে বোরোধানে নিকব্লাস্ট রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে বলে যে খবর চাউর করা হয়েছিল বাস্তবের সঙ্গে তার খুব একটা মিল খুঁজে পায়নি কৃষকরা।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন, যেভাবে মহামারী আকারে বোরোধানে নিকব্লাস্ট রোগের কথা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল তা সঠিক নয়। মাঠ পর্যায়ের হিসাব মতে এই রোগে নীলফামারীতে মাত্র ২৯ দশমিক ৫ হেক্টর, লালমনিরহাটে ২২ দশমিক ১ হেক্টর, রংপুরে ৩০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৩৯ দশমিক ৫ হেক্টর ও কুড়িগ্রামে ২৪ হেক্টর জমির ধান এই রোগে আক্রান্ত হয় বলে রংপুর কৃষি আঞ্চলিক কৃষি অফিসের এক হিসাবে তা প্রকাশ করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া ডিভিশন সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জাগো নিউজকে জানান, শুষ্ক মৌসুমে উজানের পানি কম পাওয়ার পরও চলতি বোরো ধান আবাদের সময় তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার ২০২ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হয়। এতে সেচ কমান্ড এলাকার কৃষকরা গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ মণ করে ধান ঘরে তুলছে।
কর্মব্যস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর একদিকে ছিল কালবৈশাখী ঝড়, শিলা, অতিবৃষ্টি অন্যদিকে বেশ কিছু ধান ক্ষেতে নিকব্লাস্ট আর বিএলবি রোগের আতঙ্ক। তাই চলতি বছর বোরো আবাদ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন চাষিরা। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ধান ঘরে ওঠায় স্বস্তি মিলেছে তাদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, নিকোব্লাস্ট নিয়ে যে মহামারীর খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলার কৃষক এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগ ধান কৃষক ঘরে তুলেছে। আগামী ১০/১২ দিনে মধ্যে বাকি ধান ঘরে তুলবে কৃষক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে হারে ধানের ফলন হয়েছে এতে এ অঞ্চলে প্রায় ২০ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে।
এফএ/জেআইএম