ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চুরির অপবাদে নির্যাতন, মামলার চারদিনেও গ্রেফতার নেই

প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ২৩ মে ২০১৭

ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের ৯ বছরের এক শিশুকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে অমানুষিক নির্যাতনে মামলা দায়েরের ৪ দিনেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে নির্যাতিতের পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাগরের বিরুদ্ধে স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোস্তফা কামালের কক্ষ থেকে দুই হাজার টাকা চুরির অভিযোগ করে বেধড়ক মারধর করে পা ভেঙে দেয়া হয়।

গত ১৪ মে রোববারের এই ঘটনায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হলে টনক নড়ে পুলিশের।

সাগর ও তার মা রাশিদা বেগম জানায়, এলাকার মো. আতাহার হাওলাদার (৫৫), জামাল হাওলাদার (৪০), মো. হৃদয় কারিকর (১৯), মো. আনোয়ার হোসেন (৩০), শান্ত হোসেন (১৮), মো. আ. লতিফ হাওলাদার (৪০), মো. আব্দুস সত্তার চৌকিদার (৪৫), মো. আব্দুর রব হাওলাদার (৪০), মো. সোহরাব হাওলাদার অন্তত ১৫ জনে মিলে রোববার সন্ধ্যায় সাগরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।

এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত মারধরসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তাকে বস্তায় ভরে মুখ বেঁধে চামটা খালে ফেলে দেয়ার জন্য নিয়ে যায়। বাঁচার জন্য ঘরে বড় বোনের টাকা রাখা আছে বলে সেখান থেকে তাদের তা এনে দেয়ার কথা জানায়।

এরপর তারা শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যায়। মা এবং বড় বোন শহরে ডাক্তার দেখাতে গেলে তালাবদ্ধ ঘরের এক ফাঁক দিয়ে শিশুটি প্রবেশ করে পালিয়ে থাকে।

দীর্ঘক্ষণ বেরিয়ে না আসায় বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পুনরায় নির্যাতন চালায়। শহর থেকে ফিরে মা এবং বোন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ১৯ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আহত স্কুলছাত্র সাগরের বোন রাবেয়া আক্তার সুমী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার বাদী রাবেয়া আক্তার সুমী জানান, মারধরের ঘটনা ঘটেছে ১০ দিন আগে। মামলা করেছি চারদিন আগে। সাগর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত নামধারী কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামি পক্ষের লোকজন প্রভাবশালী বিধায় আমাদের পরিবারকে উৎখাতসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, চুরির অপবাদ দিয়ে স্কুলছাত্র সাগরকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বোন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মো. আতিকুর রহমান/এএম/এমএস