যশোরে টানা তিনদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
যশোরে গ্রীষ্মের দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনদিন ধরে এ জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তাই জ্যৈষ্ঠের কাঁঠাল পাকানো প্রখর তাপে হাঁসফাঁস করছে এ অঞ্চলের মানুষ। রবি ও সোমবারের মতো মঙ্গলবারও যশোরে ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
এদিন যশোরে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে তাঁতিয়ে উঠা রোদে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। গরমে রাস্তায় যান ও মানুষের চলাচল কমে যায়।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সোমবারও যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রোববার এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সারাদেশে সর্বোচ্চ। আর শনিবার যশোরে ছিল সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার ছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বৃহস্পতিবার ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, এই গরমে নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় বিশেষ করে দুপুরের দিকে শহরে লোক চলাচল কমে আসছে। খুব প্রয়োজন না হলে মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না। তবে শ্রমিক শ্রেণির মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নরক যন্ত্রণা। তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎও মিলছে না।
যশোর অঞ্চলে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নাজুক। শহরের ঘন ঘন লোডশেডিং হলেও গ্রামে দিনে মাত্র ৬-৮ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অব্যাহত লোডশেডিং এ শিল্পকলকারখানায় উৎপাদনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন আল বিথার বলেন, তার এলাকায় প্রতিদিন ৮৫-৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে ৩৫-৪০ মেগাওয়াট। চাহিদার মাত্র ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি নাকাল শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে ঠেকেছে। জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বাতাসের আগুনের হল্কায় বিপর্যস্ত প্রাণিকূল।
শহরের বড় বাজার এলাকার দোকানি শফিকুল ইসলাম বলেন, গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। আড়তের শ্রমিক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ক’দিন মনে হচ্ছে রোদের সঙ্গে আগুন পড়ছে। শরীর পুড়ে যাচ্ছে তাপে। তারপরও কাজে এসেছি। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাবেয়া বেগম জানান, রোদের তাপে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছি। পানি পিপাসা বুক শুকিয়ে যাচ্ছে। ঠাণ্ডা পানির জন্য হাহাকার করছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কল্লোল কুমার সাহা জানিয়েছেন, গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে প্রচণ্ড তাপদাহে সব বয়সী মানুষের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গরমে পানিস্বল্পতা, আমাশয়, ডায়রিয়া, জন্ডিস ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্তের শঙ্কা রয়েছে। সতর্ক হয়ে চললে সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
মিলন রহমান/এমএএস/এমএস