বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের ইটের আঘাতে মায়ের মৃত্যু
আব্দুস সাদী রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র
ফরিদপুর শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় ছেলের ইটের আঘাতে মা ফাতেমা পারভীনের (৫১) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলে আব্দুস সাদীর বিরুদ্ধে বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। আব্দুস সাদী রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তার পরিবার শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে ভাড়া থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যায় ওই বাসা থেকে ‘মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত’ ছেলেকে সুপার মার্কেট এলাকায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান মা।
ওই সময় মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে মার্কেটের পেছন দিকে একটি গলিতে মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে সাদী পালিয়ে যায়। এ সময় আশেপাশের লোকজন আহত ফাতেমা পারভীনকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সাদীর বাবা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জরুরি কাজে গত দুইদিন আগে ঢাকায় যান। এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ফরিদপুর ফিরে আসেন।
নিহত ফাতেমার মেয়ে মারিয়া তামান্না জানান, টাকা চাওয়া নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রায় ঝগড়া করতেন সাদী। বুধবারও টাকা নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথাকাটি হয় তার।
কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক(এসআই) মনির হোসেন বলেন, মরদেহটি রাতে ডায়াবেটিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলেকে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এস এম তরুন/এএম/আরআইপি