শ্রীপুরে ছাত্র পেটানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্কুল চলাকালীন সময় ফুটবল খেলার প্রস্তুতি নেয়ার অপরাধে এক স্কুলের ১৮ ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ছাত্ররা। সোমবার দুপুরের দিকে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়, পবিত্র রমজান উপলক্ষে দীর্ঘসময় স্কুল বন্ধ থাকবে এ কারণে গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের দশম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্ররা মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করে।
স্কুল বন্ধ হওয়ার আগের দিন গত ২৭ মে ছাত্ররা স্কুল চলাকালীন সময় মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শওকত হোসেন মৃধা সেখানে উপস্থিত হন এবং স্কুল চলাকালীন সময় খেলার প্রস্তুতি নেয়ার অপরাধে ছাত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ হন।
এ সময় তিনি খেলায় অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া ছাত্রদের এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করেন। এতে দশম শ্রেণির আটজন এবং অষ্টম শ্রেণির ১০ ছাত্র আহত হয়। খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান তাদের অভিভাবকরা।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মবিনুল হকও ছাত্রদের বিরুদ্ধাচারণ করেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত এক ছাত্রের বাবা সামসুল হুদা বাদী হয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে অভিযোগ করেন। এছাড়া নির্যাতিত অপর ছাত্ররাও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট বিচার দাবি করে।
ছাত্ররা অভিযোগ করে বলে, ঘটনার বিষয়ে কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচার না পেয়ে ওই স্কুলের ক্ষুব্ধ ছাত্র ছাত্রীরা সোমবার বরমী বাজারের কেন্দুয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মবিনুল ইসলাম ছাত্রদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রমযান উপলক্ষে ২৮ মে হতে ২৯ জুন পর্যন্ত স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল ছুটির আগের দিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মাঠে খেলার প্রস্তুতি নেয়ায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাহেব কয়েক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করেছেন। তবে এতে গুরুতর তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/পিআর