ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাঁচার স্বপ্ন শিশু ইমোনার চোখে

প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ২৯ মে ২০১৭

নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে উৎফুল্ল শিশু ইমোনা। এখন সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নে বিভোর সে। শিগগিরই তার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। ইমোনা চাকমাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়েছে রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জুড়াছড়ি উপজেলার হতদরিদ্র জুমিয়া কৃষক মরদ স চাকমার মেয়ে ইমোনা বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।

তার পারিবারিক সূত্র জানায়, আগুনে ঝলসে পঙ্গুত্ব বরণ করে শিশু ইমোনা চাকমা। ২০০৯ সালে নিজেদের ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় আকস্মিক দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয় সে। আগুনে পুড়ে যায় শরীরের বেশিরভাগ অংশ। মানুষের সহায়তায় এবং সব সহায় সম্বল নিয়ে কোনো রকম চিকিৎসায় ইমোনাকে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন তার বাবা।

কিন্তু ২০১৪ সালে অসুস্থ হয়ে হঠাৎ মারা যান ইমোনার মা পদ্মানন্দী চাকমা। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় ইমোনার চিকিৎসা।

আগুনে ইমোনার বাম হাতের নিচ থেকে কোমরের নিচ অংশে মাংস ও চামড়া পুড়ে যাওয়ায় সংকুচিত হয়ে আসে তার শরীর। অন্যদিকে পড়ালেখাসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে শুরু করে সে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে না পাওয়ায় ধীরে ধীরে ক্ষতস্থান সংক্রমিত হতে থাকে।

এ অবস্থায় ইমোনার চিকিৎসার সহায়তা চেয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট আপলোড দেন ঘিলাছড়ি সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী লালন চাকমা।

ইমোনা চাকমা পড়ালেখা করছে ওই বিদ্যালয়ে। বিষয়টি নজরে আসে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়ন কর্তৃপক্ষের। সঙ্গে সঙ্গে কথা বলে মানবিক দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসে এই সেনা রিজিয়ন।

ইমোনার চিকিৎসার সব ব্যয়ভার নিশ্চিত করেছেন ৩০৫ পদাতিক রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক।

ইমোনার প্রয়োজনীয় ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য আজ (৩০ মে) তাকে চট্টগ্রাম পাঠানো হবে বলে জািনয়েছে রাঙামাটি রিজিয়ন সদর দফতর। রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক বলেন, শিশু ইমোনাকে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য যত টাকা ব্যয় হোক, তার সব ব্যয় ভার রাঙামাটি রিজিয়ন বহন করবে।

এদিকে চিকিৎসায় সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে এমন স্বপ্নে খুশিতে শিশু ইমোনা চাকমা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়নের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানায় সে।

খুশিতে সে বলে, আমি আবার ভালোভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিয়ে চলাফেরা করতে পারব। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাব। পড়ালেখা করে আমিও মানুষের সেবা করব।

ঘিলাছড়ি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী লালন চাকমা জানান, তিনি গত শনিবার বিকেলে ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাসটি আপলোড দিয়েছেন। এরপর রাতেই রাঙামাটি রিজিয়ন থেকে আমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাকে রোববার সকালে রাঙামাটি রিজিয়নে আসতে বলায় দুপুরে ইমোনাকে নিয়ে সেখানে যাই। এরপর বিস্তারিত জেনে ইমোনার চিকিৎসার জন্য সব ব্যয়ভার বহনের নিশ্চয়তা দেন, রিজিয়ন কমান্ডার স্যার।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/পিআর

আরও পড়ুন